ভূমিকা
“যুগ পরম্পরায় সারা বিশ্বের মুসলমানরা যে ইসলাম গ্রহণ ও পালন করছেন তা প্রকৃত ইসলাম নয়; বরং ইসলামের বিকৃত রূপ! প্রকৃত ইসলামের বিকৃতিসাধন ১৩শ বছর পূর্বেই হয়ে গেছে! বর্তমানের মুসলিম জনগোষ্ঠী উম্মতে মুহাম্মদী থেকে বিচ্যুত ও বহিষ্কৃত! ফলশ্রুতিতে তারা কার্যত মুশরিক ও কাফির! ১৩শ বছর পর মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী অলৌকিকভাবে প্রকৃত ইসলাম প্রাপ্ত হয়েছেন! স্বয়ং আল্লাহই তাকে সরাসরি প্রকৃত ইসলামের দীক্ষা দিয়েছেন! মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী প্রচারিত এসলামই একমাত্র ইসলাম! মুজিযার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা পন্নীর এসলামের সত্যতা প্রকাশ ও প্রমাণিত করেছেন!” এমন কিছু ভ্রান্ত, অসার দাবি ও এজেন্ডা নিয়ে আমাদের দেশে একটি ক্ষুদ্র সংগঠন কাজ করছে। সংগঠনটির নাম ‘হেযবুত তওহীদ’।
খুব স্বাভাবিক যে, নিজেদের প্রচারিত এসলামকে সত্য ও প্রকৃত, আর সারা বিশ্বে সমাদৃত ইসলামকে বিকৃত প্রমান করার ক্ষেত্রে তাদের প্রধান প্রতিবন্ধক হলেন ইসলামের কর্ণধার উলামায়ে কেরাম। সুতরাং এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হলে, জনসাধারণের মাঝে উলামায়ে কেরামের বিষোদগারের বীজ বপন করতে হবে। জনমনে তাঁদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতে হবে। তাঁদের নীতি-নৈতিকতাকে কলুষিত ও কলঙ্কিত করতে হবে। ইসলাম নিয়ে তাদের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, গবেষণাকর্মকে ভ্রান্ত বলতে হবে। এক কথায় জনসাধারণকে উলামাবিমুখতার মাধ্যমেই তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করা সম্ভব। হচ্ছেও তাই! তারা নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনসম্মুখে উলামায়ে কেরামের অযাচিত সমালোচনা করছে। ধর্মব্যবসায়ী, গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট ইত্যাদি অপবাদে ধারাবাহিক জর্জরিত করছে। যোগাযোগ মাধ্যমের সহজলভ্যতায় কথিত এ আন্দোলন ছড়িয়ে যাচ্ছে দিক দিগন্তে। বিভ্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মুসলিম। অবুঝ কিছু মুসলমান ভাইও তাদের ফেরেবে পড়ে বিভ্রান্ত হচ্ছে।
সংগঠনটি অনেক পূর্ব থেকেই দেশের কালো তালিকাভুক্ত। উইকিপিডিয়াতে সংগঠনটির পরিচয়ে উল্লেখ হয়েছে-
“হেযবুত তওহীদ বাংলাদেশ ভিত্তিক একটি ধর্মভিত্তিক সংগঠন যারা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত। ২০০৮ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় কালো তালিকাভুক্ত হয় সংগঠনটি। ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংগঠনটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে চিঠি জারি করা হয়।”
সম্প্রতি সংগঠনটির কার্যক্রম বেগবান হচ্ছে। সভা-সেমিনার, অনলাইন জগতের ফেসবুক, ইউটিউবসহ সর্বময় জোরদার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তাদের আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য হলো আলেমদের প্রতি বিষোদগার ও তাঁদের বিরোধিতা এবং বায়াজীদ খান পন্নীর নকলকৃত কথিত ইলহামী এসলামের প্রচার ও প্রসার।
কথিত এ ভ্রান্ত মতবাদ সম্পর্কে অনেক দ্বীনদার ভাইয়ের কৌতূহল ও জিজ্ঞাসা। কেউ কেউ তো প্রোপাগাণ্ডার কবলে পড়ে সংশয়ী হয়ে পড়ছেন। সত্যটি জানার নিমিত্তে উলামায়ে কেরামের শরণাপন্ন হচ্ছেন। মাসিক মুঈনুল ইসলাম বরাবরও প্রশ্ন পাঠাচ্ছেন অনেকে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে হেযবুত তওহীদ নিয়ে আামাদের বিনম্র প্রয়াস পাঠকের আদালতে তুলে ধরছি।
হেযবুত তওহীদের ইসলাম বিকৃতির স্বরূপ তুলে ধরার পূর্বে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতার পরিচয় এবং সূচনার ইতিহাস তুলে ধরা সমীচীন মনে করছি। যেকোনো মতবাদ ও ফিরকাহর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা ও সূচনার বিশ্লেষণ মৌলিক পর্যায়ের। কোনো মতবাদ হক না-হক বোঝা ও নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম সহায়ক। এতে সহজেই ঐ মতবাদের শেকড় ও হাকীকত উন্মোচিত হয়।
হেযবুত তওহীদের কাল্পনিক সূচনা
মুহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী সাহেব বিভিন্নভাবে দাবি করেছেন যে, তিনি হেযবুত তওহীদের চিন্তা পেয়েছেন ‘ইলহামে’র মাধ্যমে। আল্লাহ কর্তৃক সরাসরি প্রাপ্ত হয়েছেন। হেযবুত তওহীদের অনুসারীরাও একথাই প্রচার করে থাকেন। তারা এ দাবি কখনো স্পষ্টভাষায় কখনো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিজেদের রচনায় উল্লেখ করেছেন। তাদের কয়েকটি বক্তব্য নিম্নে তুলে ধরছি। যেমন,
১-“হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরের মধ্যে রহমানুর রহীম যে কর্মসূচি তাঁর রসূলকে দিয়েছিলেন তাঁর উম্মতের জন্য সেটা অলৌকিকভাবে এই সংগঠনকে দিয়ে একে ধন্য করেছেন”। (ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা পৃ. ৬৩)
২-“দীর্ঘ তেরশ বছর এই উম্মাহকে এই পবিত্র কর্মসূচি থেকে মাহরুম, বঞ্চিত রাখার পর রাহমানুর রহিম আল্লাহ তাঁর অসীম করুণায় তাঁর দেয়া কর্মসূচির পরিচয় এলহামের মাধ্যমে আমার হৃদয়ে নাযেল করেছেন”। (ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা পৃ.৫০)
৩-“ইয়া আল্লাহ! তোমার অপার করুনায় তুমি হেযবুত তওহীদকে যেমন তোমার নিজের তৈরী কর্মসূচি দিয়ে ধন্য করেছ, তেমনি তোমার অসীম... একে কবুল করে নাও। এবং একে তোমার কর্মসূচি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার শক্তি দাও”। (ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা পৃ. ৬৪)
৪- “জ্ঞান মূলত ২ প্রকার হয়। (১) অর্জিত জ্ঞান (২) অর্পিত জ্ঞান। মানুষ দেখে, শুনে, পড়ালেখা করে, গবেষণা করে যে জ্ঞান অর্জন করে সেটা তার অর্জিত জ্ঞান। আর মহান আল্লাহ যে জ্ঞান সরাসরি দান করেন সেটা হলো অর্পিত জ্ঞান। মহামান্য এমামুযযামানকে মহান আল্লাহ উভয় জ্ঞানই দান করেছেন।....তাঁকে তাঁর পরিণত বয়সে মহান আল্লাহ প্রকৃত সত্যদ্বীনের জ্ঞান দান করেছেন, যেটা অর্পিত জ্ঞান। তিনি প্রায়ই বোলতেন, “আমি তোমাদেরকে আমার ব্যক্তিগত কোন কথা মানতে বোলছি না, আল্লাহ আমাকে সত্যদ্বীনের যে জ্ঞান দান কোরেছেন আমি তোমাদেরকে তাই অনুসরণ করার কথা বোলছি। আর মনে রাখবে দীনের ব্যাপারে আমি নিজের থেকে কোন কথা বলি না। আল্লাহ ও তাঁর রসুল যা বোলেছেন তাই তোমাদেরকে বলি”। (‘এ জাতির পায়ে লুটিয়ে পড়বে বিশ্ব’ পৃ. ৪৩-৪৪)
৫-“আল্লাহ কয়েকটি মোজেজার মাধ্যমে সত্যায়ন কোরলেন যে, হেযবুত তাওহীদ তাঁর মনোনীত দল এবং এর এমাম জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী তাঁর মনোনীত এমাম, অর্থাৎ এই যামানার এমাম। আল্লাহ আরও ঘোষণা কোরলেন যে, তিনি এ আন্দোলনের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় তাঁর দীনুল হক প্রতিষ্ঠিত কোরবেন, এনশাআল্লাহ”। (হেযবুত তাওহীদের বিজয় ঘোষণার ভূমিকা, আরো দেখুন, এ জাতির পায়ে লুটিয়ে পড়বে বিশ্ব পৃ. ২৯)
তাদের এ সকল দাবি থেকে হেযবুত তওহীদ ইলহামী ও আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্তের (?) দাবি স্পষ্টরূপে বুঝে আসে । এ সংগঠনের কর্মসূচি পন্নী সাহেবের অন্তরে সম্পূর্ণ অলৌকিকভাবে (?) যা আল্লাহ নাযেল করেছেন।
কৌতূহল ও প্রশ্ন জাগে, বাস্তবেই কি পন্নী সাহেব কথিত এ মতবাদ আল্লাহ কর্তৃক পেয়েছেন? যা থেকে যুগ যুগ ধরে মানুষ বঞ্চিত ছিলো! না কি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার চলছে? এই প্রশ্নের উত্তর ইতিহাস চমৎকারভাবেই সংরক্ষণ করেছে। দেখা যাক হেযবুত তওহীদের প্রকৃত সূচনা সম্পর্কে ইতিহাস কী বলে।
হেযবুত তওহীদের অনুসারী চিন্তাশীল ভাই-বোনদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে যে, আপনারা একটু ইতিহাস খুলে দেখুন। প্রথমে ইতিহাসের আলোকে যাচাই করুন যে, মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী সত্য বলছেন না কি মিথ্যা বলছেন। যদি ইতিহাস একথা প্রমাণ করে যে, পন্নী সাহেব হেযবুত তওহীদ সাজিয়েছেন ভিন্ন কোনো ব্যক্তির মতার্দশের আলোকে; ভিন্ন কোনো ব্যক্তির চিন্তাধারাকেই প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন; তাহলে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার চেষ্টা করুন।
হেযবুত তওহীদের উৎস ও প্রকৃত সূচনা
উপরের আলোচনায় আমরা দেখেছি, পন্নী সাহেব ও তার অনুসারীরা তাদের আন্দোলনকে ইলহামী ও অলৌকিক বলে দাবি করেছেন। আরও দাবি করেছেন যে, হেযবুত তওহীদের চিন্তা, কর্মপদ্ধতি সবই সরাসরি আল্লাহর নিকট থেকে প্রাপ্ত। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করছে যে, পন্নী সাহেবের উপর আল্লাহ তাআলার কোনো ইলহাম আসেনি; বরং এসেছে মাশরেকী সাহেবের ইলহাম। ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকীই হেযবুত তওহীদের আদর্শগুরু ও প্রাণ। মাশরেকীর চিন্তাধারাই এই সংগঠনটির ভিত্তিমূল ও উৎস। তার চিন্তাধারার পরিমার্জিত ও বর্ধিত রূপই হলো হেযবুত তওহীদ। শুধু নাম ও শাখাগত বিষয়ের ভিন্নতামাত্র। প্রিয় পাঠক! নিম্নের তুলনামূলক বিশ্লেষণ পড়লে আপনি নিশ্চিত হকচকিয়ে যাবেন। একই চিন্তা, একই পদ্ধতি শুধু নাম আর শাখাগত বিষয়ের ভিন্নতাকে কীভাবে আল্লাহ প্রদত্ত অলৌকিক ও ইলহাম বলে তারা চালিয়ে দিচ্ছে!
পাঠক! আপনিই তুলনা ও পর্যালোচনা করে দেখুন; পন্নী সাহেবের দাবিগুলো ইলহাম না মাশরেকী ও মওদুদী সাহেবের থেকে ধারকৃত।
হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। ‘টাঙ্গাইলের পন্নী পরিবারে ১৯২৫ সনে তার জন্ম। শিক্ষাজীবন শুরু হয়, রোকাইয়া উচ্চ মাদরাসায়। দুই বছর মাদরাসায় পড়ার পর তিনি ভর্তি হন এইচ. এম. ইনস্টিটিউশনে।
১৯৪২ সনে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। এরপর সাদাত কলেজে কিছুদিন অতিবাহিত করে ভর্তি হন বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে।
সেখানে প্রথম বর্ষ শেষ করে দ্বিতীয় বর্ষে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক সমাপ্ত করেন।’ (দ্র. শিক্ষাব্যবস্থা পৃ. ৮৪-৯০)
শিক্ষাজীবনেই পন্নী সাহেব রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এই রাজনীতি তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শুরু হয় তার নতুন জীবন। যোগ দেন পাকিস্তানের ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকীর প্রতিষ্ঠিত ‘তাহরীকে খাকসার’ নামক আন্দোলনে। ‘ছাত্র বয়সে এ আন্দোলনে সাধারণ একজন সদস্য হিসেবে যোগদান করেও খুব দ্রুত তাঁর চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ও পুরাতন নেতাদের ছাড়িয়ে পূর্ববাংলার কমান্ডারের দায়িত্বপদ লাভ করেন। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি দুঃসাহসী কর্মকাণ্ড ও সহজাত নেতৃত্বের গুণে আন্দোলনের কর্ণধার ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকীর নজরে আসেন। মাশরেকী সাহেব তাকে ভারতবর্ষের বাছাইকৃত ৯৬ জন ‘সালারে খাস হিন্দ’ এর একজন হিসেবে নির্বাচিত করেন। দেশ বিভাগের অল্পদিন পর তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আসেন。’
ইনায়াতুল্লাহ খান মাশরেকী একপর্যায়ে নিজেই খাকসার আন্দোলনের বিলুপ্তি ঘোষণা করেন। এতে সালারে খাসসহ অন্য খাকসাররা মানসিকভাবে প্রচণ্ড মর্মাহত হন। ভেঙে পড়েন অনেকেই। তাদের একজন অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন,
ہم علامہ صاحب کے اس فيصلے پر دھاڑیں مارمار کر روے تھے، ہماری التجأ نہ سنی گئی اور ہم خستہ ونامراد گھروں کو لوٹ آئے۔
তারপরও খাকসারের নিবেদিতপ্রাণ কিছু কর্মীরা এ আন্দোলনকে অগ্রসর করতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। তাই তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে (পূর্ব পাকিস্তান) এসে করটিয়াতে বায়াজীদ খান পন্নীর সাথে সাক্ষাত করেন। এই আন্দোলনের নেতৃত্বপদ গ্রহণ করতে পন্নী সাহেবকে অনেক অনুরোধ করেন। যদিও পন্নী সাহেব এ আন্দোলনের বিলুপ্তি ঘোষণায় নিদারুণ মর্মাহত হয়েছেন। কিন্তু তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে অপারগ বলে এ প্রস্তাব নাকচ করে দেন। এর পর বেশ কয়েকবছর তিনি রাজনীতির সংস্রব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিরিবিলি জীবন যাপন করেন।” (দ্র. শিক্ষাব্যবস্থা পৃ. ৮৪-৯০)
কলকাতায় পড়াকালীন মাওলানা আবুল আলা মওদুদীর সাহচর্যও গ্রহণ করেছিলেন পন্নী সাহেব। (শিক্ষাব্যবস্থা পৃ. ৮৪-৯০)
প্রকৃতপক্ষে জনাব পন্নী সাহেবের জীবনী থেকে এ বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তাহরীকে খাকসারের প্রবর্তক ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী এবং মাওলানা মওদুদীই তার চিন্তা চেতনার আদর্শগুরু। তাদের সাহচর্যেই তার চিন্তা-চেতনা পরিপুষ্ট হয়েছে। সুতরাং পন্নী সাহেবের চিন্তা-চেতনা বুঝতে হলে তার জীবনের এই অধ্যায়টি স্মরণ রাখা আবশ্যক।
ইনায়াতুল্লাহ খান মাশরেকী সাহেব আন্দোলন বিলুপ্তির ঘোষণা দিলে পন্নী সাহেব মানসিকভাবে আহত হন। তাই খাকসার আন্দোলন বাদ দিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খোঁজেন। স্বপ্ন দেখেন নতুন কিছু করার। নবচিন্তার জন্য নিরিবিলি জীবনযাপন করতে থাকেন। “এভাবে একযুগেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হবার পর এলাকাবাসীর অনুরোধে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন।...শেষ নির্বাচনে বিজয়ী হতে না পেরে আবারও তিনি নিজেকে রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নেন।” (দ্র. শিক্ষাব্যবস্থা পৃ. ৮৪-৯০) আবারো শুরু হয় নির্জনতার সাধনা। আবারও স্বীয় আদর্শগুরু ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকীর চিন্তা ধারাকে ভিত্তি করে নতুনভাবে কাজ করার পলিসি আবিষ্কারে মনোনিবেশ করেন। তৈরি করে ফেলেন খাকসার আন্দোলনের নতুন ভার্সনের রূপরেখা। প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৯৫ সালে ‘হেযবুত তওহীদ’ নামক মতবাদ। হয়ে ওঠেন কথিত ‘এমামুযযামান’ যুগের এমাম (?)।
অনুসারীদের প্রভাবিত করার জন্য নতুন নতুন দাবি করতে থাকেন। মুজিযা প্রাপ্তির দাবিও বাদ পড়েনি। ‘আল্লাহর মো’জেজা’ বইয়ের ১৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ হয়েছে- ‘এমামুযযামান (?) বোলেছেন যে, হেযবুত তওহীদের জন্মের পর থেকেই এ পর্যন্ত আল্লাহ ছোট বড় বহু অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছেন।’ একই বইয়ের ভূমিকায় উল্লেখ হয়েছে- “অন্যায় অশান্তিতে পরিপূর্ণ পৃথিবীর অস্থির ও সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে মানবজাতিকে উদ্ধার করার একমাত্র পথ আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠা। এই বিরাট কাজের জন্য আল্লাহর মনোনয়নপ্রাপ্ত একজন নেতা অপরিহার্য্য....আল্লাহ কয়েকটি মো’জেজার মাধ্যমে সত্যায়ন করলেন যে, হেযবুত তওহীদ তার মনোনীত দল এবং এর এমাম জনাব বায়াজীদ খান পন্নী তার মনোনীত এমাম, অর্থাৎ এই যামানার এমাম...আল্লাহ আরও ঘোষণা করলেন যে, তিনি এ আন্দোলনের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় তার দীনুল হক প্রতিষ্ঠিত করবেন”।
পন্নী সাহেব অবশেষে ২০১২ সালে মারা যান।
জনাব বায়াজীদ খান পন্নীর সাধারণ মানব থেকে যামানার এমামে রূপান্তর হওয়ার প্রক্রিয়া আমরা দেখলাম। এবার দেখা যাক ‘হেযবুত তওহীদের চিন্তা-চেতনা তার মাথায় কীভাবে প্রবেশ করলো।
Under Construction
Under Construction
নিম্নে জাযীদ খান পন্নীর আকীদা, বিশ্বাস ও চিন্তাধারার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো। সাথে তিনি এসব আকীদা কার কাছ থেকে গ্রহণ বা ধার নিয়েছেন, তারও সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।পাঠটি একটু মনোযোগ দিয়ে চিন্তা করলেই তার আকীদার ভয়াবহতা কতটা সাংঘাতিক, তা সহজেই অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন।
১- প্রচলিত ইসলাম বিকৃত হওয়ার দাবি
পন্নী সাহেব দাবি করেছেন, নবীজীর তিরোধানের ৬০/৭০ বছর পর ইসলাম বিকৃত হয়ে গেছে। তাই বর্তমানের ইসলাম বিকৃত ইসলাম। ১৩শ বছর ধরে মানুষ বিকৃত ইসলাম পালন করে আসছে। পন্নী সাহেবের দাবিগুলো নিম্নরূপ-
“দুর্ভাগ্যবশত বিশ্বনবীর ওফাতের ৬০/৭০ বৎসর পর ইবলিস এই উম্মাহর আকিদায় বিকৃতি ঢুকিয়ে দিতে সমর্থ হলো। যার ফলে এই জাতি...ইসলাম ও উম্মাতে মোহাম্মদী দু’টো থেকেই বহিষ্কৃত হয়ে গেল।” (ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা পৃ.৪৮)
“অর্থাৎ তাঁর প্রকৃত উম্মত পৃথিবীতে থাকবে ৬০/৭০ বছর। তারপর যেটা থাকবে সেটা নামেমাত্র উম্মতে মোহাম্মদী, সেটা প্রকৃতপক্ষে উম্মতে মোহাম্মদী নয়। (ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা পৃ.৪৮)
“আল্লাহর রসূল চৌদ্দশত বছর আগে ইসলামের যে শেষ সংস্করণটি মানবজাতিকে উপহার দিয়েছিলেন সেটি এবং বর্তমানে আমরা যে ইসলাম বলে পরিচিত দীনটি পালন করছি, এই দুইটি যে শুধু ভিন্ন নয়; একেবারে বিপরীতমুখী দু’টি পথ তা দেখাতে সংক্ষেপে মাত্র ২২টি প্রমাণ উপস্থাপিত করলাম” (যুগ সন্ধিক্ষণে আমরা পৃ. ১৩)
“আজ মুসলিম বলে পরিচিত জাতিটি যেটাকে দীনুল ইসলাম বলে তাদের জীবনে পালন করছে সেটা নবীর শেখানো ইসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত।” (ইসলামের প্রকৃত সালাহ পৃ. ১০, দ্র. ধর্মব্যবসার ফাঁদে; পৃ. ১৬, এই এসলাম সেই এসলাম নয়, শিক্ষাব্যবস্থা পৃ. ৮৯)
ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী সাহেব প্রথমে এ দাবিটি করেছেন। তিনি বিভিন্নভাবে দাবি করেছেন যে, প্রকৃত ইসলাম সেটাই যা প্রথম শতকে ছিলো। তারপর তা বিকৃত হয়ে ভুলভাবে পালিত হচ্ছে। তার কিছু বক্তব্য নিম্নরূপ-
-پچھلے سو سال کا اسلام غلط ہے!! اسلام وہی ہے جو سرور کائنات علہ التحیۃ والسلام آسمان سے قرن اول ميں لائے۔
“বিগত শত বছরের পালিত ইসলাম গলদ ও ভুল। একমাত্র ইসলাম তাই যা রাসূল স. আসমান থেকে প্রথম যুগে নিয়ে এসেছিলেন।” (মওলবী কা গলত মাযহাব পৃ. ২৫)
ہم نے تيرہ سو برس کی بھول اورکئی سو برس کی خطائے کبير کے بعد پھر اپنے سچے اور اصلی، پھر قطعی اور خدائی، ہاں آخری محمد کے آخری اسلام کو پھر پاليا ہے۔
“তেরশ বছরের গলদ এবং শত শত বছরের বিকৃতির পর আসল, সত্য, অকাট্ট, আখেরী নবীর আনিত আখেরী ইসলাম পুনরায় আমরা পেয়েছি।” (কওলে ফায়সাল পৃ. ১৩)
اس واقع الامر سے انکار کرنا محال ہے کہ خاتم النبیین کا لایا ہو اسلام در اصل وہی قرن اول کا اسلام تھا۔دیتاچہ تذکرۃ ۱/۷۴
قرن اول یا قرون اولی کا اسلام ہی صحيح ہے ۔ مختصر سوانح خاکسار ازحميد المشرقی ص/৮
জনাব পন্নী সাহেবের আর এক আদর্শগুরু হলেন, জনাব মাওলানা মওদুদী সাহেব। তিনিও ইসলামের মৌলিক কিছু বিষয় অস্পষ্ট হয়ে ভুল প্রচলন হওয়ার দাবি করেছিলেন। দ্র. কুরআন কি চার বুনিয়াদি ইসতেলাহিঁ।
এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, ইসলাম বিকৃতির দাবি পন্নী সাহেবের প্রতি আল্লাহর ইলহাম নয়; বরং তার আদর্শগুরু মাশরেকী সাহেবের ইলহাম।
২- হেযবুত তওহীদই একমাত্র প্রকৃত ইসলাম
বায়াজীদ খান পন্নী সাহেব দাবি করেছেন, তেরোশো বছর যে দ্বীন বিকৃত হয়ে ছিলো; তা আজ তিনি পেয়েছেন বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকেই সরাসরি শিখানো হয়েছে। এটিই একমাত্র সত্য দ্বীন। এ ছাড়া অন্য কোনো ইসলাম আল্লাহ কবুল করবেন না। যেমন তিনি বলেন,
“আল্লাহ তাঁর অসীম রহমতে আমাদের জন্য কোন এসলাম তাঁর শ্রেষ্ঠ রসূল দিয়ে এনায়েত করেছেন। কোন এসলাম তিনি কবুল করবেন তা আমাদের এই হেযবুত তওহীদকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।... এই হেযবুত তওহীদ থেকে আমরা মানুষকে ডাকছি সেই প্রকৃত এসলামের দিকে।” (যুগসন্ধিক্ষণে আমরা পৃ. ১৫)
“গ্রহণ করতে হবে স্রষ্টার দেওয়া নিখুঁত সিস্টেম বা সত্য দীন। যা কেবলমাত্র হেযবুত তওহীদের কাছেই আছে।” (হেযবুত তওহীদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য পৃ. ১৬)
মাশরেকী সাহেব আরও পূর্বেই এই দাবিটি করেছেন। তার বক্তব্য হলো- ১৩শ বছরের ইসলাম বিকৃত ও ভুল। ১৩শ বছর পরে একমাত্র তিনিই প্রকৃত ইসলামের সন্ধান পেয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘খাকসার তাহরীক’ একমাত্র প্রকৃত ইসলাম। যেমন তিনি বলেন-
-ہم نے تيرہ سو برس کی بھول اورکئی سو برس کی خطائے کبير کے بعد پھر اپنے سچے اور اصلی، پھر قطعی اور خدائی، ہاں آخری محمد کے آخری اسلام کو پھر پاليا ہے
“তেরশ বছরের গলদ এবং শত শত বছরের বিকৃতির পর আসল, সত্য, অকাট্ট, আখেরী নবীর আনিত আখেরী ইসলাম পুনরায় আমরা পেয়েছি।” (কওলে ফায়সাল পৃ. ১৩)
-خاکسار تحریک اس اصلی دین کی طرف ایک راہ راست اور واحد صراط مستقيم ہے۔
“খাকসার আন্দোলন ঐ প্রকৃত দীনে পৌঁছার একটি ও একমাত্র সঠিক রাস্তা।” (কওলে ফায়সাল পৃ. ১৪)
-خاکسار تحریک عين اسلام ہے۔ مولوی کا غلط مذہب ص/۲۷۸
-ہم دین اسلام کو از سر نو زندہ کرنے کے لئے اٹھے ہيں۔ قول فصل ص/۵۰
পাঠক ভেবে দেখুন, পন্নী সাহেবের দাবি কি ইলহাম না কি মাশরেকী সাহেবের অনুসরণ?
৩- ইলাহ অর্থ একমাত্র হুকুমদাতা; মাবুদ নয়!
জনাব পন্নী সাহেব দাবি করেছেন, ইলাহ অর্থ উপাস্য ও মাবুদ নয়; বরং হাকিম ও হুকুমদাতা। যেমন তিনি বলেন-
“মুসলিম বলে পরিচিত জনসংখ্যাটি, লা এলাহা এল্লাল্লাহ কলেমার ভুল অর্থ করে, ইলাহ শব্দের অর্থকে একমাত্র হুকুমদাতার বদলে একমাত্র উপাস্য বলে রূপান্তর করে,...।” (দাজ্জাল পৃ. ৭৪-৭৫)
“আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নেই এটা অতি সত্য কিন্তু সেটা কলেমা নয়, এ দীনের ভিত্তি নয়, এ কলেমা পাঠ করে অন্য দীনের কোনো মানুষ এই দীনে প্রবেশ করতে পারবে না...ইলাহ আগে, মাবুদ পরে। ইলাহ এবং মাবুদ দুটি আলাদা শব্দ, ভিন্ন অর্থ।” (দাজ্জাল পৃ. ৮০)
“সঠিক এসলাম আজ হারিয়ে গেছে, এবং বর্তমানের ‘লা মাবুদ ইল্লাল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই’ কলেমার বিকৃত এসলামটাকেই পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ঐ ক্ষুদ্র দলটি করে যাচ্ছেন...” (দাজ্জাল পৃ. ৭০)
জনাব ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী সাহেবও ইলাহের অর্থ করেছেন হুকুমদাতা হিসেবে। তিনি তার ‘তাযকিরা’ বইয়ে বিভিন্নভাবে এটি বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। নিম্নের বক্তব্য থেকেও তা অনুমেয়-
کسی دوسری شیئ کے حکموں کو نہ ماننا ہی مچھے ایک کہنے، ایک ماننے اور جاننے کے برابر ہے۔ یہی توحید ہے، یہی لا الہ الا ہو کا صحیح مطلب ہے۔ اشارات ص/۱۳۳
“অন্য কাউকে হুকুমদাতা না মানাই আমার নিকট আল্লাহকে এক বলা ও মানার বরাবর। এটিই তাওহীদ। এটিই লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর সঠিক ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্য।”
জনাব পন্নী সাহেবের দ্বিতীয় আদর্শগুরু জনাব মওদূদী সাহেবও ইলাহ শব্দ নিয়ে কাছাকাছি দাবি করেছিলেন। দ্র. চার বুনিয়াদী এসতেলাহিঁ।
ভেবে দেখুন পন্নী সাহেবের দাবির উৎস ইলহাম বা অর্পিত জ্ঞান নাকি তার দুই উস্তাদ ও গুরুর মতাদর্শ?
৪- তওহীদ অর্থ আল্লাহর যমীনে আল্লাহর শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা!
পন্নী সাহেব দাবি করেছেন যে, তাওহীদ অর্থ আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করা নয়; বরং আল্লাহর দেয়া শাসনব্যবস্থা ও জীবনব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং অন্যদের শাসন ব্যবস্থকে অস্বীকার করা। তওহীদ বিষয়ে পন্নী সাহেবের কিছু বক্তব্য নিম্নরূপ-
“আল্লাহ ছাড়া জগতের সকল বিধানদাতা, হুকুমদাতা, সার্বভৌম অস্তিত্বকে অস্বীকার করাই হচ্ছে তওহীদ, এটাই এই দীনের ভিত্তি।...বর্তমান দুনিয়ার কোথাও এই তওহীদ নেই, সর্বত্র আল্লাহকে কেবল উপাস্য বা মাবুদ হিসাবে মানা হচ্ছে, কিন্তু এলাহ বা সার্বভৌমত্বের আসনে আল্লাহ নেই। (শিক্ষাব্যবস্থা পৃ. ৮৯-৯০)
“জাতীয় জীবন আল্লাহর দেয়া দীন আইন-কানুন দন্ডবিধি অর্থনীতি দিয়ে পরিচালিত না হলে সেটা আল্লাহর তওহীদ হবে না। সেটা হবে শেরক ও কুফর।” (ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা পৃ. ৫৭, দ্র. ইসলামের প্রকৃত সালাহ পৃ. ৩১, প্রকৃত সালাহ পৃ. ৯, ইসলামের প্রকৃত সালাহ পৃ.৯, তাকওয়া ও হেদায়া পৃ. ৫)।
এ হলো পন্নী সাহেবের তাওহীদ নিয়ে বিকৃতি। যা তিনি আল্লাহ কর্তৃক নয়; মাশরেকী সাহেব কর্তৃক প্রাপ্ত হয়েছেন। ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী সাহেবও তাওহীদের এমনি অর্থ করেছেন। তিনি তাওহীদের ব্যাখ্যা করেছেন, এক আল্লাহর চাকরি তথা তার শাসন ব্যবস্থার বাস্তবায়ন করা। তার লিখিত তাযকিরা বইটিতে বিভিন্নভাবে এটি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। যেমন তিনি আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন,
دین اسلام اپنی تمام حيثيات ميں ایک اجتماعی مذہب تھا، توحيد (یعنی خدائے واحد کی ملازمت) اس کا محور عمل، اور اتحاد خلق اس کا قبلہ مقصود تھا۔
“সার্বিক দিক বিবেচনায় দীনে ইসলাম সংঘবদ্ধ ধর্ম। তাওহীদ অর্থাৎ এক আল্লাহর চাকরি এ ধর্মের মেরুদণ্ড। সকলের মাঝে ঐক্য তৈরী তার প্রধান উদ্দেশ্য।” (তাযকিরা ৩/৮)
তিনি স্বীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী তওহীদকেই প্রকৃত দীন বলে দাবিও করেছেন। তিনি বলেন,
-اصل دین ميرے نزدیک توحيد ہے۔۔۔صوم، وصلوۃ، حج، و زکوۃ کو رسما اور عدتا یا تعظيما ادا کر لينا یا کلمۂ شہادت کو بصحت تمام پڑھ لينا ميرے نزدیک قطعا کوئی عبادت نہيں۔ مقدمہ تذکرۃ ۱/ ۹۸
-توحيد پر عمل کائنات کی بہتری کی بنياد ہے۔ مختصر سوانح خاکہ از حميد الدین احمد المشرقی ص/ ۵
এ থেকে প্রমাণ হয়, তাওহীদের এমন আবিষ্কৃত ও অদ্ভূত অর্থ পন্নী সাহেবের ইলহাম নয়; বরং তার আদর্শগুরু মাশরেকী সাহেবের। পন্নী সাহেব তারই অনুসরণ করেছেন মাত্র।
৫- ইবাদত অর্থ খেলাফত কায়েম করা; উপাসনা নয়!
জনাব বায়াজীদ খান পন্নী শরীয়তের বিভিন্ন পরিভাষার একে একে বিকৃতি সাধন করেছেন। ইবাদত সম্পর্কে তার দাবি হলো, ইবাদত অর্থ উপাসনা নয়; বরং আল্লাহর শাসন পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করা। যেমন তিনি বলেন,
“ইবাদতের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে- যে জিনিসটিকে যে কাজ করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে সেই কাজটি করাই হচ্ছে সেই সৃষ্ট জিনিসটির ইবাদত।...আমরা মানুষ হলাম আল্লাহর খলিফা। (আমদের সৃষ্টি করা হয়েছে খেলাফত তথা শাসন করার জন্য) আল্লাহর কাজ হলো শাসন। নিজের সৃষ্ট এই মহাবিশ্বকে শাসন তাঁর কাজ। পৃথিবীতে এই কাজটা তিনি নিজে না করে দায়িত্ব দিলেন মানুষকে। মানুষ আল্লাহর হয়ে তার খলিফা হয়ে প্রতিনিধি হয়ে শাসন করবে...(আল্লাহ বললেন) এটাই হলো তোমাদের ইবাদত যে জন্য তোমাদের সৃষ্টি করেছি।” (দাজ্জাল পৃ. ৮৩-৮৫)
“ইবাদত মনে করে আজ এই গোমরাহ জনসংখ্যা যা করছে (নাময, রোযা, হজ্জ, যাকাত....) তা প্রকৃত ইবাদত অর্থাৎ খেলাফতের কাজ নয়।...প্রকৃত ইবাদত হচ্ছে আল্লাহর দেয়া দীন (জীবন-ব্যবস্থা) মোতাবেক তাঁর পক্ষ হয়ে শাসন করা।” (দাজ্জাল পৃ. ৮৭)
জনাব ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকীও ইবাদতের এমন অর্থ করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী ইবাদত অর্থ আল্লাহর উপাসনা নয়; বরং তার শাসনব্যবস্থার বাস্তবায়ন। নিম্নের বক্তব্য গুলো থেকে তা অনুমেয়-
-عبادت کے معانی وہ نہيں ہو سکتے جو لوگوں نے بنائے ہيں ، خدائے زمين و آسمان معاذ اللہ اس بات کا محتاج نہيں کہ لوگ اسکی نمازیں پڑھے، اور خوشامد کرتے رہيں، بلکہ مقصود تعميل احکام ہی ہے، يہی دنيا کا ہر حاکم اپنی رعيت سے چا ہتا ہے۔۔۔اس نقطہ نظر سے ما خلقت سے مقصود يہی ہے کہ ہم نے دنيا کے جن و انس کو پيدا ہی نہيں کيا مگر اس جبلت پر کہ وہ ہمارے احکام (یعني قانون فطرت) کی تعميل ميں لگے رہں ،
“মানুষের তৈরী ও কল্পিত বিষয়গুলো কখনো ইবাদাত নয়। আসমান যমীনের মালিক মানুষের নামায, খোশামোদের প্রতি কোনো মুখাপেক্ষীই নন। বরং ইবাদাতের মূল উদ্দেশ্যে হলো, আল্লাহর বিধানের বাস্তবায়ন। দুনিয়ার সকল বাদশাহ প্রজাদের থেকে এটাই আশা করে।...এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের জিন ইনসান জীবকে তিনি এই উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন যে, আমরা দুনিয়াতে তাঁর শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নে নিয়োজিত হবো।” (তাযকিরা ৩/১১৮)
-عبادت کے قرآنی معانی آج صدیوں کے انقلاب تخيل کے بعدقطعا مسخ ہو چکے۔ (تاذکیرا۱/۱۰۵-۱۱۳)
-الصلوۃ صرف ایک نوکر کا پنج وقتہ سلام ہے، عبادت فی الحققت۳ ان پانچ وقتوں کے بعد سے شروع ہوتی ہے۔۔۔دیاچہ تذکرۃ ১/۹۱، مقدمہ الصلوۃ اور اس کے تقاضے ص/۲۰=۲۱
এ থেকেও প্রমাণিত হয় যে, পন্নী সাহেব ইবাদত অর্থে যা বলেছেন তা ইলহাম নয় বরং মাশরেকী সাহেবের অনুসরণ।
৬- যোদ্ধার চরিত্র মুসলিম জাতির সর্বপ্রধান বৈশিষ্ট্য!
জনাব বায়াজীদ খান পন্নী দাবি করে বলেন-
“আল্লাহর রসূলের এসলাম যে জাতি গঠন করেছিল সে জাতির চরিত্রে সর্ব প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল যোদ্ধার চরিত্র।” (যুগসন্ধিক্ষণে আমরা পৃ. ১১)
“আল্লাহ তাঁর দীনকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠার জন্যে সশস্ত্র সংগ্রাম, যুদ্ধকেই নীতি হিসেবে বেছে নিয়েছেন।” (ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা; পৃ. ৪৭)
“আল্লাহর নির্দেশে তাঁর রসুল যে উম্মাহ, যে জাতি গঠন করলেন সেটাকে একটি জাতি না বলে বরং একটি সামরিক বাহিনী বলাই যথার্থ হয়।” (ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা পৃ.৬১)
ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী সাহেবের দাবিও অনুরূপ। তিনি ইসলামের মূল ভিত্তি স্থির করেছেন সিপাহী ও সামরিক হওয়াকে। যেমন তিনি বলেন-
ہمارا مذہب، ہمارا دین، ہمارا اسلام، ہمارا ایمان سپاہی بنناہے۔
“সিপাহী, যোদ্ধা হওয়াই আমাদের দীন, ধর্ম এবং আমাদের ঈমান।” (কওলে ফায়সাল পৃ.۱۵)
-اس کا منشٲ قرون اولی کے عملی اور سپاہيانہ اسلام کو پھر زندہ کرنا ہے۔ قول فصلے ص/۳۱
“এই আন্দোলনের প্রধান মিশন হলো ইসলামের প্রথম যুগের সেই যোদ্ধা ও সামরিক ইসলামের পুনর্জাগরণ।” (কওলে ফায়সাল পৃ. ৩১)
উক্ত বক্তব্যদ্বয় থেকে প্রমাণিত হয় যে পন্নী সাহেব এ দাবিটিও স্বীয় আদর্শগুরু মাশরেকী সাহেব থেকেই পেয়েছেন। এবং সিপাহী হওয়ার দীক্ষা ও ট্রেনিং তার থেকেই নিয়েছেন।
৭- নামায জেহাদের প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়ামাত্র!
জনাব পন্নী সাহেব সকল ইবাদতকে তার প্রচারিত সিপাহী ইসলামে সিপাহীর আন্দাযে ব্যাখ্যা করেছেন। ইসলামের সকল ইবাদতের মাঝে তিনি যোদ্ধার প্রবণতা আর যুদ্ধের ট্রেনিং খুঁজে পেয়েছেন। তার দৃষ্টিতে কোনো ইবাদতই মূল উদ্দেশ্য নয়। প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের প্রস্তুতি। এজন্য তিনি নামাযের অভিনব পদ্ধতির দাবি করেছেন যাকে ইসলামী নামায না বলে সিপাহী নামায বলাই অধিক যুক্তিযুক্ত। তিনি বলেন,
“ঐ ঐক্য ও শৃঙ্খলা শিক্ষার প্রক্রিয়া হলো সালাত (নামায)। কিন্তু (সালাত) নামায উদ্দেশ্য নয়, উদ্দেশ্য অর্জনের প্রক্রিয়ামাত্র।” (মো’মেন, মুসলিম ও উম্মতে মোহাম্মদীর আকিদা পৃ.৮)
“এক কথায় সমস্ত জাতিটি একটি সামরিক বাহিনী, নারী-পুরুষ প্রত্যেকে এক একটি সৈনিক, মোজাহেদ, যোদ্ধা। এই সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ হলো সালাহ।” (ইসলামের প্রকৃত সালাহ পৃ. ৪৭)
“সালাহ চরিত্র গঠনের মূখ্যত দুর্ধর্ষ, অপরাজেয় যোদ্ধার চরিত্র গঠনের প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়া।” (প্রকৃত সালাহ পৃ. ৩২)
পন্নী সাহেব নামাযের স্বতঃসিদ্ধ পদ্ধতিকে ভুল আখ্যা দিয়ে সিপাহী নামাযের পদ্ধতি লিখেছেন তা রচিত বই প্রকৃত সালাহ’তে। ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী সাহেব এ দাবি পূর্বেই করেছেন। তার দৃষ্টিতেও ইসলামের সকল ইবাদতের উদ্দেশ্য মূলত যুদ্ধের প্রশিক্ষণ। যেমন তিনি বলেন-
دین اسلام کا نچوڑ صرف خدا کا سپاہی بننا ہے، اسی سپاہيانہ گر مسلمان کی قرون اولی والی سپاہيانہ نمازہے، سپاہيانہ حج ہے، سپاہيانہ روزہ ہے، سپاہيانہ زکوۃ ہے۔ غلط مذہب ص/۱۳۹
“দীনে ইসলামের সারনির্যাস হলো আল্লাহর সৈন্য ও যোদ্ধা হওয়া। ইসলামের প্রথম যুগে নামায, হজ্জ, রোযা, যাকাত সবই ছিল যুদ্ধের প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়ামাত্র।” (মওলবী কা গলত মাযহাব পৃ. ১৩৯)
মাশরেকী সাহেব এই সামরিক নামাযের অভিনব পদ্ধতি ও রূপরেখাও বর্ণনা তৈরি করেছেন। যেমন তার জীবনীতে হামীদুদ্দীন মাশরেকী লিখেছেন-
علامہ مشرقی نے عسکری نماز کا پروگرام بعنوان دین قيم پيش کيا۔ مختصر سوانح خاکہ ص/۱۳
“আল্লামা মাশরেকী সামরিক নামাযের প্রোগ্রামের নাম দিয়েছিলেন দীনে কাইয়্যিম।”
মাশরেকী সাহেব নামাযের স্বত:সিদ্ধ ও স্বীকৃত পন্থাকে ভুল আখ্যা দিয়েছেন। নামায শুধু ট্রেনিংমাত্র একথা সাব্যস্ত করার লক্ষ্যে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন ‘আসসালাহ আওর উসকে তাকাযে’ নামে।
এ থেকেও পন্নী সাহেবের ইলহামের দাবি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। বাস্তবতা হলো মাশরেকীর অনুকরণ, আর দাবি হলো ইলহামের!
৮- জিহাদ নিয়ে অভিনব কিছু দাবি!
জনাব পন্নী সাহেব জেহাদ সম্পর্কে অদ্ভুত ও অভিনব কিছু দাবি করেছেন।
ক. জেহাদ ছাড়া কোনো আমল কবুল করা হবে না!
তার দাবি অনুযায়ী জেহাদই দ্বীনের প্রধান আমল। এ ছাড়া অন্য কোনো আমল কবুল হবে না। জেহাদ করে পৃথিবীর কর্তৃত্ব অর্জনই মূল উদ্দেশ্য। এ কর্তৃত্ব না থাকায় কোনো আমলই কবুল হচ্ছে না। যেমন তিনি বলেন-
“যে নামায, রোযা এবং আরও হাজার রকমের এবাদত করা হচ্ছে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হচ্ছে মনে করে আমরা আহম্মকের স্বর্গে বাস করছি।” (ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা পৃ. ১৩)
“প্রচেষ্টা (আমল জেহাদ) ছাড়া দোয়ার কোন দাম আল্লাহর কাছে নেই।” (তাকওয়া ও হেদায়া পৃ. ১৩)
খ. মো’মেন হওয়ার জন্য জেহাদ করা শর্ত; জেহাদ ত্যাগ করে সবাই মুশরিক ও কাফির হয়ে গেছে!
তিনি বলেন, “এই জাতির পথভ্রষ্ট লোকেরা যখন নীতি হিসাবে জেহাদ ত্যাগ করলেন তখন তারা বুঝলেন না যে, আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দৃষ্টিতে আর তারা মো’মেন রইলেন না। (যুগসন্ধিক্ষণে আমরা; পৃ. ৩)
“আল্লাহ জেহাদকে মো’মেন হবার সংজ্ঞার মধ্যে শর্ত হিসাবে দিলেন।” (ইসলামের প্রকৃত সালাহ পৃ. ১২)
“অথচ দীন প্রতিষ্ঠার এই জেহাদ অর্থাৎ প্রচেষ্টা ছাড়া দীনুল ইসলামই অসম্পূর্ণ; কারণ ঈমানের সংজ্ঞার মধ্যে, মো’মেন হবার সংজ্ঞা, শর্তের মধ্যেই আল্লাহ এই জেহাদ অর্থাৎ দীন প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টাকে , সংগ্রামকে ঢুকিয়ে দিয়ে রেখেছেন। (সুরা হুজরাত ১৪)” (ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা পৃ. ৬৫) (যুগসন্ধিক্ষণে আমরা পৃ. ৪)
গ. জেহাদ ত্যাগ করে পৃথিবীর কর্তৃত্ব হারিয়ে সবাই কাফির, মুশরিক হয়ে গেছে!
তিনি বলেন, “আমরা যতই নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, যতই হাজার রকম ইবাদত করি, যতই মুত্তাকী হই, আমরা মো’মেন নই, মুসলিম নই, উম্মতে মোহাম্মদী হবার তো প্রশ্নই ওঠে না।”(যুগসন্ধিক্ষণে আমরা; পৃ. ৫)
‘এ বিকৃত এসলামের অনুসারীদেরকে তিনি (পন্নী) বোলেছেন কার্যতঃ কাফের মোশরেক যার মাধ্যে এ দীর্ঘসময়ের সকল আলেম, ওলামা, পীর, দরবেশ, মোফাসসের, মোহাদ্দেসরা এসে যায়। ( এ জাতির পায়ে পৃ. ৪২) (ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা পৃ. ১৩)
ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী সাহেবও জেহাদ করে পৃথিবীর কর্তৃত্ব অর্জন করাই কুরআনের প্রধান আমল সাব্যস্ত করেছেন। যেমন তিনি বলেন-
قرآن کا عمل صرف ہاتھوں اور پيروں کا عمل ہے، جنگی اور فوجی عمل ہے، خدا کا بندہ بن کر دینا پر حکمران ہونے کا عمل ہے، اللہ کا سپاہی بن کر زمين پر غالب ہونے کا عمل ہے۔
“হাত, পায়ের মাধ্যমে সামরিক অভিযানই শুধু কুরআনসম্মত প্রধান আমল। আল্লাহর বান্দা হয়ে দুনিয়ার শাসক হওয়াই প্রধান কাজ। আল্লাহর সৈনিক হয়ে পৃথিবীতে বিজয় হওয়াই কুরআনসম্মত কাজ!” (মওলবী কা গলত মাযহাব পৃ. ৪৪)
نماز، نفلں وردں ذکر، تسبيح، دعا از روئے قرآن کسی معنوں ميں عمل نہيں۔۔۔۔
“নফল নামায, যিকির-আযকার, তাসবীহ, দুআ ইত্যাদি কুরআনের আলোকে কোনো অর্থবহ ইবাদত নয়।” (মওলবী কা গলত মাযহাব পৃ. ৪৫)
তিনি জেহাদকে তাওহীদ ও ঈমানের অংশ দাবি করেছেন এবং জেহাদ ত্যাগ করাকে শিরক বলেছেন। যেমন তিনি বলেন-
-وما الکفر إلا إعراضکم عن الجهاد بالسيف وفراركم من الموت. الافتتاحية ص/۱۱۸
-إن الجهاد بالمال والأنفس والهجرة من الإيمان. الافتتاحية ص/ ۸۱
-ولا شك في أن كل واحد من أصول الإسلام أعنى التوحيد في العمل ووحدة الأمة، وإطاعة الأمير، والجهاد بالمال، والجهاد بالأنفس، والهجرة، والاستقامة إلى السعي، ومكارم الأخلاق والعلم، والإيمان بالآخرة، التي تقدم ذكرها من لوازم الإيمان بل شرائطه التي ما كادت لها أن تفك عن الإيمان، فمن لزمها استقام في إيمانه، ومن صرف عنها سقط إيمانه. الافتتاحية ص/۸۰
“সশস্ত্র জিহাদ ও মৃত্যু থেকে পালিয়ে যাওয়াইতো একমাত্র কুফর!”
“জান মাল দিয়ে জিহাদ করা এবং হিজরত নিশ্চয়ই ঈমানের অংশ।”
“ইসলামের মৌলিক বিষয় যথা, তাওহীদ ফিল আমল (সশস্ত্র জিহাদ), উম্মাহর ঐক্য, নেতার অনুসরণ, জান মাল দিয়ে জিহাদ, অবিচলতার জন্য চেষ্টা, উত্তম গুণাবলী ও জ্ঞান, পরকালের বিশ্বাস যা ইতোপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে- নিঃসন্দেহে এগুলো ঈমানের আবশ্যকীয় অংশ। বরং অপরিহার্য শর্ত, যা ঈমান থেকে পৃথক হবার নয়। সুতরাং যে উক্ত বিষয়সমূহ আক—ে ধরবে, সে ঈমানের উপর অবিচল থাকবে। আর যে বিমুখ হবে সে ঈমান থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বে।”
ভেবে দেখুন পন্নী সাহেবর উপর কার ইলহাম হয়েছে? আল্লাহর না কি মাশরেকীর?
৯- যুদ্ধ আর সংগ্রাম করাই করাই সুন্নাহ!
জনাব পন্নী সাহেব শরীয়তের অন্যান্য পরিভাষার ন্যায় সুন্নাহ পরিভাষায়ও বিকৃতি করেছেন। তিনি দাবি করেছেন-
“সংগ্রাম ও সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে এই জীবনব্যবস্থা, এই শেষ দীন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্ঠা- এটাই হলো তাঁর প্রকৃত সুন্নাহ।... তার (রাসুলের) ব্যক্তি জীবনের ছোটখাটো, কম প্রয়োজনীয় অভ্যাসের সুন্নাহ বোঝাননি।” (মো’মেন, মুসলিম ও উম্মতে মোহাম্মদীর আকিদা পৃ. ১৪, ১৬)
“বাহাত্তর ফেরকা যে সুন্নাহগুলি পালন করেন সেগুলি শুধু বিশ্বনবীর সুন্নাহ নয়, সেগুলি লক্ষ কোটি খ্রিষ্টান-ইহুদী, হিন্দু, বৌদ্ধের সুন্নাহও! কিন্তু জান্নাতি ফেরকা যে সুন্নাহ পালন করে সে সুন্নাহ একমাত্র বিশ্বনবী ও তার আসহাব ছাড়া পৃথিবীতে আর কেউ পালন করেন না। সেটা হলো, শেষ জীবনব্যবস্থা, দীনকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করার জন্য অপরিসীম দুঃখ কষ্টের মধ্যদিয়ে সংগ্রাম।” (মো’মেন, মুসলিম ও উম্মতে মোহাম্মদীর আকিদা পৃ.১৭)
“এই সংগ্রাম করে সারা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই ছিল তার পৃথিবীতে আবির্ভাবের উদ্দেশ্য। তাই এ সংগ্রামই হচ্ছে তার সুন্নাহ।” (তাকওয়াহ ও হেদায়াহ পৃ. ১১)
সুন্নাহকে পরিহাস করা বা হাস্যকর বিষয় বলা
পন্নী সাহেব স্বীয় ব্যাখ্যার বাইরের সকল সুন্নাহ পালনের প্রতি উপহাস করে বলেন-
“এই জাতি সেই কুফর ও শেরেককে গ্রহণ করেও, সেই মোতাবেক জাতীয় জীবন পরিচালিত করেও নবীর কতকগুলি অপ্রয়োজনীয় নিরাপদ নেহায়েত ব্যক্তিগত অভ্যাসকে নিষ্ঠার সাথে নকল করে নিজেকে অতি উৎকৃষ্ট উম্মতে মোহাম্মদী ভাবছে। কী পরিহাস, কী হাস্যকর।” (মো’মেন, মুসলিম ও উম্মতে মোহাম্মদীর আকিদা পৃ. ১৮)
ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী সাহেবও এমনি কথা বলেছেন। তিনিও সশস্ত্র যোদ্ধ হওয়াকেই একমাত্র সুন্নাহ বা উসওয়ায়ে রাসূল সাব্যস্ত করেছেন। যেমন তিনি বলেন-
خاکسار تحریک تيرہ سو پچاس برس کے بعد جس سچے اور اصلی مذہب کی طرف ہر مسلمان کو پھر لے جانے کے لئے تيار ہوئی ہے وہ مذہب خدا اور اسلام کے عملی اور با ہتھيار سپاہی بننا ہے۔ يہی بچا اور اصلی اسوۃ رسول ہے۔ قول فيصل ص/ ۴۲
خاکسار تحریک نے تيرہ سو پچاس برس کے بعد پہلی دفعہ مسلمان کو بتایا ہے کہ اسوۃ حسنۃ اسوۃ رسول دین اسلام الغرض خدا کا سچا مذہب صرف اور صرف سپاہيانہ زندگی ہے۔ قول فيصل ص/ ۴۵
“তেরশত পঞ্চাশ বছর পর খাকসার আন্দোলন যে সঠিক ধর্মের দিকে প্রতিটি মুসলমানকে ডাকছে সেটি হলো আল্লাহর ধর্ম এবং ইসলামের সামরিক সশস্ত্র সৈনিক হওয়া। এটিই রসূলের প্রকৃত ও সঠিক উসওয়া ও আদর্শ।”
মাশরেকী সাহেবও রাসূল স. এর জেহাদের বাহিরে অন্য সকল সুন্নাহ ও উসওয়ার পালনকে উপহাস করেছেন। তিনি বলেন-
۔۔۔یہ عجب مسخرا پن ہے کہ تم رسول خدا صلعم کے چند لمحوں کے ہر چھوٹے سے چھوٹے عمل کو ان کے ساتھ انتہائی محبت کا مکر کرکے اپنے دین وایمان کا جز خيال کرتے ہو ليکن ان کی دن رات کی جانکاہ تکيلف برداری ان کی چوبيس گھنٹے کی سپاہيانہ زندگی ۔۔۔شير مادر کی طرح بے ڈرکار ہضم کر جاتےہو۔ قول فيصل ص/ ۴۳-۴۴
“অত্যন্ত পরিহাসের বিষয় যে, তোমরা রসূলের ছোটখাটো বিষয়কে কেন্দ্র করে অগাধ মহব্বত প্রদর্শন করো এবং এটাকে ঈমানের অংশ মনে কর। কিন্তু তাঁর দিবারাত্রি চব্বিশ ঘন্টার সৈনিক জীবনকে ... বিনা ভয়ে মায়ের দুধ পান করার মত নিশ্চিন্তে এড়িয়ে যাও!” (কওলে ফায়সাল পৃ. ৪৩-৪৪)
পন্নী সাহেবের ইলহাম আর অলৌকিক জ্ঞানের দাবি যে কতটুকু মিথ্যাচার তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি ‘হাস্যকর; ‘পরিহাস’ শব্দচয়নের মাঝেও মাশরেকী সাহেবের অনুসরণ করেছেন। তার এসব কর্মকাণ্ড দেখে আশ্চর্য হতেই হয়।
১০- অলৌকিকভাবে প্রাপ্ত কথিত পাঁচ দফা কর্মসূচী
জনাব বায়াজীদ খান পন্নী হেযবুত তওহীদের জন্য পাঁচ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সাথে এ কথাও বলেছেন যে, এ পাঁচদফা কর্মসূচি সকলকে বঞ্চিত করে শুধু তাকেই দান করেছেন। যেমন তিনি বলেন-
“দীর্ঘ তেরশ বছর এই উম্মাহকে এই পবিত্র কর্মসূচি থেকে মাহরুম, বঞ্চিত রাখার পর রাহমানুর রহিম আল্লাহ তাঁর অসীম করুণায় তাঁর দেয়া কর্মসূচির পরিচয় এলহামের মাধ্যমে আমার হৃদয়ে নাযেল করেছেন”। (ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা পৃ.৫০)
“দীনুল ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করতে প্রচেষ্টা করছে, পৃথিবীতে এমন বহু সংগঠন আছে...এদের ভুল আকিদার কারণে এদের কোনোটাকেই আল্লাহ তাঁর নিজের তৈরি কর্মসূচি দেন নি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরের মধ্যে রহমানুর রহিম যে কর্মসূচি তাঁর রসুলকে তাঁর উম্মাহর জন্য দিয়েছিলেন সেটা অলৌকিকভাবে এই সংগঠনকে দিয়ে একে ধন্য করেছেন।....’ (ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা পৃ. ৬৩)
(পাঁচ দফা কর্মসূচি হলো) ১- ঐক্যবদ্ধ হও ২- নেতার আদেশ শোন ৩- নেতার ঐ আদেশ পালন করো ৪- হেজরত করো ৫- এই দীনুল হককে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করো। (ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা পৃ. ৫১-৫২, (ইসলামের প্রকৃত সালাহ পৃ. ১১)
ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী সাহেবও দ্বীনের সর্বোচ্চ আমল ও কর্মসূচি স্থির করেছেন দশদফাকে। তার আবিষ্কৃৃত দশদফাকেই সংক্ষেপ করে পন্নী সাহেব পাঁচদফা বানিয়েছেন। মাশরেকী সাহেবের দশদফার যে পাঁচটি পন্নী সাহেব গ্রহণ করেছেন তা নিম্নরূপ-
جس قوم اندر توحيد کے یہ سب عظيم الشان اعمال بدرجۂ اتم قائم ہيں، جسکے افراد ميں
۱=وحدت امت، ۲=اطاعت امير، ۳=جهاد بالسيف والأنفس، ۴=الهجرة إلی البلاد وهجر کل ما یشغلکم عن السعی =یہ وہ عظيم الشان اصول ہيں جن پر ميری دانست ميں نبی آخر الزمان کے لائی ہوئے اسلام کی تمام بنياد ہے۔۔۔تذکرہ ۱/۱۲۷ ، الافتتاحیۃ ص/ ۵۶
“যে জাতির মাঝে তাওহিদের নিম্নোক্ত মহান আমলসমূহ পূর্ণরূপে বিদ্যমান থাকযে যথা, ১- উম্মাহর ঐক্য, ২,৩- নেতার আনুগত্য ও তার আদেশ পালন, ৪- জান-মাল দিয়ে জিহাদ, ৫- হিজরত...এই মহান দশ কাজ প্রায়োগিকভাবে যাদের মাঝে থাকবে, তাদের হাতে সর্বদার জন্য পৃথিবীর নেতৃত্বভার থাকা একটি চূড়ান্ত বিষয়। আমার জানামতে শেষ নবীর ইসলামের ভিত্তি এই মহান মৌলিক বিষয়গুলোর উপরই।”
প্রিয় পাঠক ভেবে দেখুন, যে কর্মসূচি সম্পর্কে পন্নী সাহেব এতবড় ইলহামের দাবি করলেন তা মোটেও আল্লাহ কর্তৃক ইলহাম নয় বরং মাশরেকীর অনুসরণ।
পিছনের আলোচনায় জনাব বায়াজীদ খান পন্নী এবং তার প্রতিষ্ঠিত হেযবুত তওহীদের পরিচয় আমরা জেনেছি। সূচনা ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে সম্যক অবগতি লাভ করেছি। বোদ্ধাপাঠককে নতুন করে বলা প্রয়োজন নেই যে, বায়াজীদ খান পন্নী এবং হেযবুত তওহীদ পন্থীরা ইসলাম প্রতিষ্ঠা করছে না; বরং বিকৃতি করছে। প্রকৃত ‘এসলামের’ নামে যা প্রচার করছে সেটাই মূলত বিকৃত ‘এসলাম’।
কুরআন ও হাদীসের আলোকে বায়াজীদ খান পন্নী ও তার অনুসারীদের ভ্রান্তির পরিমাণ ও সীমা নির্ণয় করাই এ পর্বের মূল প্রতিপাদ্য।
ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা ও নিজেদের সরলতার কারণে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তির শিকার হই; ভুল বোঝাবুঝির শিকার হই। ইসলামের নামে কোনো ব্যক্তি আওয়াজ তুললেই মনে করি যে, সে প্রকৃত ইসলামের কথাই বলছে। সাথে কুরআন-হাদীস থেকে বিকৃত দু’একটি উদ্ধৃতি দিলে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ি! দিন দিন তার ভক্তবৃন্দ বেড়ে গেলে এবং পার্থিব শৈার্য আর জৌলুস কায়েম হলে তো আর কথাই নেই। তাকে ইসলামের গায়বী দূত মনে করে বসি! অজ্ঞতা আর সরলতার বেড়াজালে আমরা অন্ধ হয়ে যাই। অথচ সে ইসলামের নামে অনৈসলাম প্রচার করছে। বিকৃতি করছে কুরআন ও হাদীসের। ইসলামের অতন্দ্রপ্রহরী উলামায়ে কেরাম যখন তার শুধু ভুলটুকু ধরিয়ে দেয়া চেষ্টা করেন তখন আমরা আরেক অজ্ঞতার পরিচয় দেই। একজন নয় দু’জন নয় গোটা উলামায়ে কেরামকেই ভুল মনে করি। নিছক একজন ভন্ড ব্যক্তির প্রতি নিজের ভক্তিশ্রদ্ধা টিকিয়ে রাখার জন্য। বড়ই আশ্চর্যজনক আমাদের বিচার ও বিবেক।
ইসলাম ‘নাম সর্বস্ব’ কোনো ধর্ম নয়। ইসলাম নাম নিলেই তার প্রতিনিধি মুসলমান হয়ে যায় না। ইসলামের মৌলিক কিছু নীতি ও বিশ্বাস রয়েছে যা আক্ষরিক অর্থেই মেনে নিতে হয় এবং তা অন্তরে পোষণ করতে হয়। এক চুল পরিমাণ লঙ্ঘন করলেই সে আর মুসলিম থাকবে না; বরং ইসলামের গন্ডি থেকে বের হয়ে যাবে। এখন প্রশ্ন হলো, জনাব ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী এবং তার শিষ্য জনাব বায়াজীদ খান পন্নী এমন মৌলিক বিশ্বাসগুলোকে পোষণ করেন, নাকি লঙ্ঘন করেন? পোষণ করলে তারা মুসলিম আর লঙ্ঘন করলে অমুসলিম। এ কথাটি স্মরণ রাখলে সামনের আলোচনা বুঝতে সহজ হবে ইনশা আল্লাহ।
বায়াজীদ খান পন্নী যেহেহু নতুন কেউ নন। তার প্রচারিত মতবাদও নতুন নয়; বরং ইনায়াতুল্লাহ খান মাশরেকী ও তার তাহরীকে খাকসারের নতুন ভার্সন। তাই খোদ ইনায়াতুল্লাহ খান মাশরেকীর মৌলিক ভ্রান্তিসমূহ এবং তার সম্পর্কে তৎকালীন উলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত তুলে ধরছি। ভ্রান্তির আলোচনার পূর্বে এ ভ্রান্তিগুলো নির্ণয়ে উলামায়ে কেরাম কতটুকু সতর্কতা অবলম্বন করেছেন সে দিকে একটু ইঙ্গিত দেয়া সমীচীন মনে হচ্ছে।
মাশরেকী সম্পর্কে ফাতওয়া: উলামায়ে কেরামের সতর্কতা
ইনায়াতুল্লাহ খান মাশরেকীর ‘খাকসার তাহরীক’ প্রথমে সাদামাটা হলেও পরবর্তী সময়ে তা ভয়াবহতার রূপ নেয়। তিনি ইসলামের নাম ব্যবহার এবং কুরআন হাদীসের বিকৃত উদ্ধৃতি দিতে আরম্ভ করেন। অনেকেই তাকে ইসলামের একমাত্র নেতা হিসেবে গ্রহণ করে। বিকৃতির রূপ দিন দিন আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। তার প্রচারণা ও তৎপরতা চলতে থাকে ক্ষিপ্র গতিতে। ইসলামী আকীদা সংরক্ষণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঈমানের হেফাজতের জন্য বাধ্য হয়ে উলামায়ে কেরাম তার চিন্তা-চেতনা পর্যবেক্ষণ করা শুরু করেন।
ভারত উপমহাদেশের বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে সজাগ হন এবং গভীর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন। তৎকালীন উলামায়ে কেরাম নিরপেক্ষভাবেই তার বক্তব্য এবং রচনাবলী পরিপূর্ণ নিষ্ঠার সাথে পর্যালোচনা করে খতিয়ে দেখেন। দারুল উলূম দেওবন্দের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্ব পড়ে হযরত মুফতী মুহাম্মদ শফী রাহ. এর উপর। তিনি ইনায়াতুল্লাহ খান মাশরেকীর রচনাবলী কীভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন তার বিবরণ তুলে ধরেছেন ‘মাশরেকী আওর ইসলাম’ নামক কিতাবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
مطالعہ میں اس کا بھی اہتمام ہو کہ گرد وپیش کے مقالات وخیالات سے خالی الذہن ہو کر دیکھا جاوے۔ جن عبارتوں میں کوئی تاویل (گو بعید ہی ہو) ہو سکے اس میں تاویل کرکے نظر انداز کیا جاوے۔
“মাশরেকীর কিতাব অধ্যয়নের মাঝে তৎসংক্রান্ত অন্যান্য প্রবন্ধ ও চিন্তাফিকির থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে পর্যবেক্ষণের প্রতি বিশেষ লক্ষ রাখতে হবে। যে সমস্ত বক্তব্যে ব্যাখ্যা সম্ভব (দূরবর্তী হলেও) তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে।” (মাশরেকী আওর ইসলাম পৃ.২)
এভাবে অধ্যায়ন করে তিনি কিছু পয়েন্ট চিহ্নিত করেন। যেখানে মাশরেকী সাহেব ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের লঙ্ঘন করেছেন। চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের পূর্বে এসকল বিষয়ে খোদ মাশরেকীর সাহেবের কোনো ব্যাখ্যা আছে কিনা- তা জানার জন্য মাশরেকী সাহেবের সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু মাশরেকী সাহেবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো জবাব দিতে অসম্মতি প্রকাশ করা হয়। তার বিশ্বাস ও চিন্তাধারা নিয়ে কোনো ধরনেরই আলোচনা করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। সাথে সাথে তার রচিত বই পুস্তকে যা আছে তা সত্য ও অপরিবর্তনীয় বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। মাশরেকী সাহেবের সাথে সরাসির আলোচনার পথ না থাকায় তার লিখিত রচনাবলীর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
মাশরেকীর মৌলিক ভ্রান্তি ও কুফরী
মুফতী মুহাম্মদ শফী রহ. সহ অখন্ড ভারতের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম জনাব মাশরেকীর রচিত ‘তাযকিরা’, ‘ইশারাত’, ‘কওলে ফায়সাল’ ‘মওলবী কা গলত মাযহাব’ ইত্যাদি বইয়ের আলোকে তার বহুবিধ ভ্রান্তি ও কুফরী বিশ্বাস চিহ্নিত করেন। জনাব মাশরেকীর ভ্রান্তি ও কুফরী চিন্তার ব্যাপারে সকলেই ঐকমত্য হয়ে যান। জনাব মাশরেকীর ভ্রান্তি ও কুফরী বিশ্বাসের ফর্দ-ফিহরিস্ত বেশ দীর্ঘ। তবে মৌলিকভাবে তিনটি দিক প্রণিধানযোগ্য।
এক. ইসলামের অকাট্ট বিধানকে অস্বীকার। দুই. ইসলামের অকাট্ট বিষয়ের বিকৃতিমূলক ব্যাখ্যা। তিন. ইসলামের অকাট্ট বিধানের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা।
প্রিয় পাঠককে আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, মাশরেকী এবং পন্নী সাহেবান একই নৌকার মাঝি। মৌলিক দিক থেকে উভয়ের ভ্রান্তি এক ও অভিন্ন। প্রথম পর্বের আলোচনায় মাশরেকী ও পন্নী সাহেবদ্বয়ের চিন্তার যে তুলনামূলক আলোচনা করা হয়েছে তা আরও একবার দেখলে সহজেই বুঝে আসবে যে, তারা কীভাবে ইসলামের অকাট্ট বিষয়াবলির অস্বীকার, বিকৃতি এবং তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছেন। মাশরেকী সাহেবের এ গোমরাহী এতটাই স্পষ্ট ছিলো যে, অখন্ড ভারতের সকল উলামায়ে কেরাম তার গোমরাহী ও কুফরের উপর একমত হয়ে গেছেন । এমনকি আরব বিশ্বের মুফতীয়ানে কেরামও তার গোমরাহী ও কুফরীর ফাতওয়া দিয়েছেন। একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান কিংবা একটি দেশের উলামায়ে কেরাম নয়; বরং সারা বিশ্বের উলামায়ে কেরাম তার গোমরাহী ও কুফরীর ব্যাপরে একমত পোষণ করেছেন।
মাশরেকীর কুফরী: মুসলিম বিশ্বের উলামায়ে কেরামের ফাতওয়া
ভ্রান্ত ব্যক্তিদের খুব ভালো করেই জানা আছে যে, ইসলামের নামে নতুন কিছু প্রচার করতে গেলেই প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে উলামায়ে কেরাম। ইসলামের সুচনা থেকেই এ বাস্তবতা তারা লক্ষ করেছে। তাই তারা প্রথমেই উলামায়ে কেরামকেই টার্গেট করে। তাদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ায়। নিজের ভক্তদের মাঝে উলামায়ে কেরামের প্রতি অনাস্থা তৈরি করে। এরপর ক্রমান¦য়ে নিজের নতুন ইসলাম প্রচার করতে থাকে। মাশরেকী এবং পন্নী সাহেবরাও এই কাজই করেছেন। তারা উলামায়ে কেরামকে অভাবনীয় হেয় করেছেন; তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছেন। জনমনে তাঁদের প্রতি অগাধ আস্থা-বিশ্বাস নড়ব—ে করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছেন।
সহজ একটি প্রশ্ন হলো, মাশরেকী সাহেবদের প্রচারিত কথা যদি সত্যই হয়, তাহলে সারা বিশ্বের উলামায়ে কেরাম তাদের বিপরীতে কীভাবে ঐকমত্য হলেন? প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে বসে মাশরেকী সাহেবের চিন্তা-চেতনা পর্যবেক্ষণ করেছেন। অথচ কুরআন হাদীস সকলের সামনেই বিদ্যমান। সকলেই কুরআন হাদীসের আলোকে জনাব মাশরেকীর চিন্তা-চেতনা পরখ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সিদ্ধান্তে সকলেই একমত পোষণ করছেন। এরপরও কি দু’একজনের প্রতি আঙ্গুল তুলে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তকে মিথ্যা বা ভুল বলার ব্যর্থ চেষ্টা করা সাজে?
আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের সংগ্রহে ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী ও তাহরীকে খাকসার সংক্রান্ত অখন্ড ভারতের প্রায় সকল প্রসিদ্ধ দারুল ইফতার ফাতওয়া রয়েছে। অন্যান্য দেশের উলামায়ে কেরামের ফাতওয়াও রয়েছে। নিম্নে আমরা মুসলিম বিশ্বের উলামায়ে কেরামের কিছু সিদ্ধান্ত সংক্ষেপে তুলে ধরছি। এরপর পন্নী সাহেবের গোমরাহী, কুফরী সরাসরি কুরআন হাদীসের সাথে মিলিয়ে দেখাবো। ইনশাআল্লাহ।
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ফাতওয়া
ভারত উপমহাদেশের উলামায়ে কেরামের সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’। অখন্ড ভারতের সর্বোচ্চ পর্যায়ের উলামায়ে কেরামই এর সদস্য। এই জমিয়তের ২৯/৮/১৯৪২ঈ. এ অনুষ্ঠিত ‘ইজলাসে’ সম্মিলিতভাবে জনাব মাশরেকীর ব্যাপার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। জনাব মাশরেকীকে ‘ইলহাদ’ ও ‘যানদাকা’ (কুফর) এর প্রচারকারী সাব্যস্ত করা হয়। সিদ্ধান্তের কপিটি নিম্নে তুলে ধরছি-
۲۹/اگشت ۲۴ کو جمعیۃ علماء ہند دہلی کی مجلس منتظمہ کا اجلاس منعقد ہوا تھا،جس میں مندرجہ ذیل حضرات علماء کرام نے شرکت فرمائی تھی: (۱) شیخ الاسلام والمسلمین اعلی حضرت مولانا پیر محمد انور شاہ صاحب محدث کشمیری (۲) مولانا مفتی کفایت اللہ صاحب (۳) مولانا ابو المحاسن محمد سجاد صاحب (۴) مولانا سید مرتضی حسن صاحب (۵) مولانا حافظ احمد سعید صاحب (۶) مولانا سراج احمد صاحب (۷) مولانا عبد الحلیم صاحب (۸) مولانا ابو المعارف محمد عرفان صاحب (۹) مولانا بشیر احمد صاحب (۱۰) مولانا مبارک حسین صاحب (۱۱) مولانا سلطان محمود صاحب۔ ان حضرات نے غور وخوض کے بعد حسب ذیل ریزویوشن پاس کرکے اخبارات کو بغرض اشاعت بھیجا تھا۔
جمعیۃ منتظمہ کے اجلاس میں عنایت اللہ مشرقی کی کتاب ’تذکرہ‘ پیش ہوئیں اس کے متعلق باتفاق رائ قرار پایا کہ کتاب مذکور میں الحاد وزندقہ کے جراثیم اسلامی عنوانات میں پیش کئے گئے ہیں، اور اس کا مؤلف جس طرح مذہب اور دین سے قطعا آزاد ہے، اسی طرح کسی خاص اصول کا بھی پابند نہیں، اسلامی فرائض پر استہزاء اور توہین اور آسمانی عقائد کا ابطال اس کا خاص مطمح نظر ہے، اور ان تمام قابل نفرت مقاصد کے ساتھ نصاری کی مدح سرائی اور ان کی نصرت واعانت اور ان کے اغراض کی حمایت مقصد اعلی ہے۔
پس جمعیۃ کا یہ اجلاس اس کتاب کو جس طرح مذہب کے لئے زہر سمجھتاہے، اسی طرح اسلامی سیاست کے لئے بھی بدترین دشمن یقین کرتاہے، اور تمام قومی ومذہبی وسیاسی مرکزوں کو توجہ دلاتا ہے کہ وہ اس فتنہ کو روکنے میں پوری قوت صرف کریں۔
“জনাব ইনায়াতুল্লাহ খান মাশরেকীর কিতাব ‘তাযকিরাহ’র মাঝে ইসলামের নামে ইলহাদ ও যানদাকাহর বিষাত্মক জীবানু প্রচার করা হয়েছে। এ বইয়ের লেখক যেরূপ দ্বীন-ধর্মের দ্বার ধারে না তেমনি বিশেষ কোনো নীতিবিধানও মেনে চলে না। ইসলামের ফরয বিধানসমূহ নিয়ে হাসি-ঠাট্টা এবং হেয় করা, ধর্মীয় আকীদা-বিশ্বাসকে বাতিল আখ্যা দেয়াই তার মূল টার্গেট। এ সকল ঘৃণ্য কাজের পাশাপাশি খ্রিস্টানদের ভূয়সী প্রশংসা, তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা এবং তাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্যের সংরক্ষণ করাই তার প্রধান উদ্দেশ্য। সুতরাং জমিয়তের এই ইজলাস এই কিতাবকে যেমন ধর্মের ক্ষেত্রে বিষতুল্য মনে করে তেমনি ইসলামী রাজনীতির অঙ্গনে অত্যন্ত নিকৃষ্ট দুশমন মনে করে। জাতীয়, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমস্ত কেন্দ্রের নিকট জমিয়তের উদাত্ত আহ্বান হলো, তারা যেন এই ফিতনাহ দমনে সর্বশক্তি ব্যায় করেন।” (তাবসেরা বর তাযকেরাহ পৃ.৪৪, ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী কে আকায়েদ পৃ. ২২-২৩)
হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানাবী রহ. এর ফাতওয়া
হাকীমুল উম্মত হযরত আশরাফ আলী থানবী রহ. ভারতে সুপ্রসিদ্ধ ও বিশ্বখ্যাত একজন আলেম ও মূফতি। হাজারো বিজ্ঞ আলেমের রাহবার ও দিকনির্দেশক। তিনি জনাব মাশরেকীর ভ্রান্তি-খণ্ডন বিষয়ক লিখিত একটি কিতাবের অভিমতে লেখেন,
بعد الحمد والصلاۃ، اشرف علی تھانوی عفی عنہ عرض رسا ہے کہ میں نے رسالہ مسمی بہ خاکساری فتنہ مولفہ حضرت پیرزادہ مولانا بہاء الحق صاحب قاسمی امرتسری جابجا سے بنظر تعمق دیکھا، جس میں اس فتنہ کے بانی (عنایت اللہ) مشرقی کے عقائد واقوال مع حوالہ نقل کئے گئے ہیں، یہ عقائد واقوال مجموعی طور پر یقینا موجب کفر ہیں، اور ان کا معتقد وقائل یقینا کافر ہے، ہر مسلمان پر بقدر استطاعت اس فتنہ کا ازالہ فرض ہے۔
“আল্লাহর প্রশংসা ও দুরুদ সালামের পর বান্দা আশরাফ আলীর অভিব্যক্তি হলো, আমি হযরত মাওলানা বাহাউল হক কাসেমী অমৃতসরী লিখিত খাকসারী ফিতনা নামে রিসালাটির কয়েক স্থানে গভীরভাবে দেখেছি। সেখানে এই ফিতনাহর প্রতিষ্ঠাতা ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকীর আকীদা ও বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃতিসহ উল্লেখ হয়েছে। এই ধরনের আকীদা-বিশ্বাস ও বক্তব্য সমষ্টিগত দিক থেকে অবশ্যই কুফুরকে আবশ্যক করে। এগুলোর বিশ্বাসকারী ও প্রবক্তা নিশ্চিত কাফির। এই ফিতনাহ নির্মূলে প্রত্যেক মুমিনের যথাসম্ভব চেষ্টা চালানো ফরয/অবশ্যকর্তব্য।” (খাকসারি ফিতনাহ পৃ.৫৫)
শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর ফাতওয়া
শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. দারুল উলূম দেওবন্দের বিখ্যাত শায়খুল হাদীস ও সদরুল মুদার্রিসীন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কায়িদে আযম। তিনিও মাশরেকীর কুফরী ও ইলহাদের ফাতওয়া দিয়েছেন। তিনি লেখেন,
میں اس تحریک کو مسلمانوں اور اسلام کے لئے سخت ضرر رساں سمجھتا ہوں، اور صاحب ’تذکرہ‘ کے مضامین تذکرہ کو کفر والحاد وزندقہ سے پر دیکھتاہوں، یہ ایک عظیم الشان فتنہ ہے جس کے متعلق میرا خیال ہے کہ برٹش گورنمنٹ کے مقاصد برآری کے لئے اٹھایا گیا ہے۔
کتاب تذکرہ مصنفہ عنایت اللہ مشرقی کفریات اور ملحدانہ مضامین سے بھری ہوئی ہے، عبارات مذکورہ بالا اور ان کے مماثل عبارتیں الحاد اور زندقہ پر صریح طور پر دلالت کررہی ہیں، اگر ان سے مراد وہی ہے جو بظاہر سمجھ میں آتا ہے، سیاق اور سباق بھی اسی کے مؤید ہیں اور عنایت اللہ مشرقی کا عقیدہ بھی وہی ہے تو یقینا وہ مرتد اور زندیق ہے، اس کو جلد از جلد توبہ کرنی چاہئے۔ فقط واللہ اعلم۔ ننگ اسلاف حسین احمد غفرلہ، الاجوبۃ صحیحۃ لا شک فیہا، بندہ اصغر حسین عفا اللہ عنہ، الاجوبۃ کلہا صحیحۃ، بندہ محمد شفیع عفا اللہ عنہ، اصاب المجیب العلام، مسعود احمد عفا اللہ عنہ نائب مفتی دار العلوم دیوبند، ۲۰شعبان۵۵ھ ۔
“আমি এই তাহরীককে ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর মনে করি। তাযকিরা লিখকের বক্তব্য ও আলোচনাসমূহ কুফর ও ইলহাদে ভরপুর। এটি এক বিরাট ফিতনা। আমার মনে হয়, ব্রিটিশ সরকারের লক্ষ্যকে বেগবান করতেই এই আন্দোলনের আবিস্কার। (তাবসেরা বর তাযকেরা পৃ.১৮, ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী কে আকায়েদ পৃ.১৩)
ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী লিখিত তাযকিরা কিতাবটি কুফর ও ইলহাদ বিষয়ক বিষয়বস্তুতে ঠাসা। উপর্যুক্ত বক্তব্য ও এ জাতীয় বক্তব্যগুলো স্পষ্টভাবে ইলহাদ ও যানদাকাহর প্রমাণ বহন করে। যদি এই সমস্ত বক্তব্য থেকে বাহ্যিকটাই উদ্দেশ্য হয়, যেমনটি বাক্যের পূর্বাপর সমর্থন করে, এবং ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকীও এ আকীদা পোষণ করে তাহলে সে সুনিশ্চিত মুরতাদ ও যিন্দিক। অতিসত্ত্বর তার তাওবা করা চাই। ” (রহমতে বারী-মওলবী হাকীম নূর মুহাম্মাদ পৃ. ৬-৮, ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী কে আকায়েদ পৃ.৪৭-৪৯)
মুফতী কিফায়াতুল্লাহ রহ. এর ফাতওয়া
তৎকালীন ভারতের মুফতীয়ে আযম ছিলেন মুফতী কিফায়াতুল্লাহ দেহলবী রহ.। তিনি মাশরেকী ফিতনার ব্যাপারে একাধিক ফাতওয়া লেখেছেন। তার একটি ফাতওয়াতে দিল্লীর উলামায়ে কেরাম দস্তখত করে সত্যায়ন করেছেন। সেই ফাতওয়াটির অংশবিশেষ নিম্নরূপ,
مشرقی کی تذکرہ اور اس کی دوسری تحریری ایسے مضامین سے بھری پڑی ہیں جن سے اسلامی عقائد اور فرائض وواجبات کی طرف سے نہ صرف بے پروائی بلکہ نفرت ہر دیکھنے والے کے دل میں پیدا ہونا لازمی ہے، نماز، روزہ، حج، زکوۃ کو نہ صرف بیکار محض بتایا گیاہے بلکہ ان پر عمل کرنے کو دزوخ کا ایندھن بننے کا سبب قرار دیا ہے، سنن نبویہ ڈاڑھی، استنجاء بالحجر، مسواک وغیرہ کا مذاق اڑایا گیاہے، اور علماء اسلام کو برا بھلا کہنا تو ان کی معمولی بات ہے، مگر اس ضمن میں عام مسلمانوں کے اوپر یہ خیال مسلط کیا جاتاہے کہ وہ علماء سے بدظن ہونے کے ساتھ ساتھ اسلامی عقائد وفرائض سے بیزار ہوتے جارہے ہیں، اور یہ بات کفرہے۔۔۔اس جدید فرقہ بندی (تحریک خاکسار) کا فتنہ قادیانی فتنے سے بھی زیادہ مہلک اور خطرناک ہے۔
“মাশরেকী লিখিত তাযকিরা বইটি এবং তার অন্যান্য লেখনী, এমনসব বিষয়বস্তু দিয়ে ভরা, যা একজন পাঠকের মনে ইসলামী আকীদা, ফরয ও ওয়াজিব বিধানসমূহের প্রতি শুধু বেপরোয়া মনোভাব তৈরী করবে এতটুকু নয়; বরং তার মনে এগুলোর প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করবে। নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাতকে অনর্থক কাজ শুধু এতটুকু বলার মাঝেই ক্ষান্ত হয় নি; বরং দোযখের ইন্ধন হওয়ার কারণ বলা হয়েছে! নবীজির সুন্নাতসমূহ যেমন: দাড়ি, ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার, মেসওয়াক ইত্যাদি নিয়ে উপহাস করা হয়েছে। উলামায়ে ইসলামকে মন্দ ও খারাপ অভিধায় অভিহিত করা তো স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু এখানে চিন্তার বিষয় হলো, জনমনে উলামায়ে কেরাম সম্পর্কে বিরূপ ধারণা বদ্ধমূল করার জবরদস্ত চেষ্টা চলছে। যদ্দরুন তারা উলামাদের প্রতি বিরূপ মনোভাব রাখার পাশাপাশি ইসলামী আকীদা ও ফরয বিধানবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এ ধরণের কথাবার্তা কুফুরি...। এ নব্য মাশরেকী ফিতনার ভয়াবহতা কাদিয়ানী ফিতনাহর চেয়ে’ অধিক খতরনাক ও ধ্বংসাত্মক।” (ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী কে আকায়েদ পৃ.৩৭)
দারুল উলূম দেওবন্দের ফাতওয়া
দারুল উলূম দেওবন্দ সমগ্র বিশ্বে একটি সুপরিচিত নাম। বিশ্বে লক্ষ-কোটি মুসলমানের প্রতিনিধিত্ব করে এই দারুল উলূমের ফাতওয়া। মাশরেকী ফিতনাহর ভয়াবহতা নিয়ে দারুল উলূমের পক্ষ হতে ফাতওয়া লেখেন মুফতী মুহাম্মদ শফী রহ.। তিনি মাশরেকীর ভ্রান্ত আকীদার দীর্ঘ আলোচনা করে বলেণ,
کل امور حسب تفصیل مذکور بلا شبہ خلاف اسلام اور الحاد وزندقہ ہیں۔ اور ملحد وزندیق اصطلاح شرح میں اسی شخص کو کہا جاتا ہے جو اسلام کا مدعی ہونے کے باوجود عقائد کفریہ رکھتا ہو۔ اور آیات قرآنیہ کے ایسے معنی بناتا ہو جو دوسری نصوص اور اجماع امت کے خلاف ہیں۔۔۔
کسی مدعي اسلام کو کافر قرار دینا ایک نہایت خطرناک اور نازک معاملہ ہے، اسی لیے ہم نے اس میں امکانی احتیاط سے کام لیا اور جب یہ دیکھ لیا کہ ان عبارات میں کوئی صحیح تاویل بھی نہیں ہو سکتی اس وقت مسلمانوں کی حفاظت اور خود مشرقی کی خیر خواہی کے نظر سے یہ لکھا کہ ایسے خیالات وعقائد رکھنے والا ملحد اور مخالف اسلام ہے۔
“উপর্যুক্ত বিবরণমতে এই সব বিষয় নিশ্চিতভাবে ইসলামের বিপরীত এবং ইলহাদ ও যানদাকাহ। শরীআতের পরিভাষায় মুলহিদ ও যিন্দীক ঐ ব্যক্তিকে বলা হয়, যে নিজেকে মুসলিম দাবী করা সত্ত্বেও কুফুরী আকীদা পোষণ করে এবং কুরআনের আয়াতসমূহের এমন ব্যাখ্যা যা অন্যান্য আয়াত, হাদীস ও উম্মাহর ইজমাহর বিপরীত। নিজেকে মুসলমান দাবীকারী কোনো ব্যক্তিকে কাফির বলা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও খতরনাক বিষয়। তজ্জন্য আমরা তার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য পর্যায়ের সতর্কতা অবলম্বন করেছি। যখন তার বক্তব্যসমূহে কোনো ধরনের সঠিক ব্যাখ্যার অবকাশ পাওয়া যায় নি, তখন মুসলিম উম্মাহ ও স্বয়ং মাশরেকী সাহেবের কল্যাণ কামনায় এ কথা লিখেছি যে, এমন আকীদা ও চিন্তাধারা পোষণকারী ব্যক্তি মুলহিদ ও ইসলামের বিরোধিতাকারী।” (মাশরেকী আওয়ার ইসলাম পৃ. ৭৩)
মাযাহিরুল উলূম সাহারানপুরের ফাতওয়া
ভারতে দ্বিতীয় বৃহৎ দ্বীনী প্রতিষ্ঠান মাযাহিরুল উলূম সাহারানপুর। মাযাহিরুল উলূম সাহারানপুরের মুফতী ও মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা সাঈদ আহমদ রহ. মাশরেকী ফিতনা সম্পর্কে একটি ফাতওয়া লেখেন যা অন্যান্য উলামায়ে কেরাম তাসদীক ও সত্যায়ন করেছেন। ফাতওয়াটির অংশবিশেষ নিম্নররূপ,
مشرقی کے کفریہ اقوال وعقائد سے اس کی تحریرات پر ہیں، ظاہر میں اس کی تحریک بعض مسلمانوں کو اچھی معلوم ہوتی ہے اور ناواقفیت کی بناء پر اس میں شریک ہوجاتے ہیں، لیکن اس کی تحریرات وتقریرات سے ظاہر ہے کہ اس کی تحریک اسلامی تحریک نہیں ہے۔ بلکہ اس کا مقصد الحاد وزندقہ ہےاور وہ اسلام کا دشمن ہے۔
“মাশরেকীর কুফরী কথাবার্তা ও কুফরী আকীদা বিশ্বাসে তার বইপত্র, লেখনী ভরপুর। অজ্ঞতার কারণে কিছু মুসলমান তার আন্দোলনের বাহ্যিক সৌন্দর্যে মোহিত হয় এবং সেখানে যোগদান করে। কিন্তু তার বক্তব্য ও লেখনী থেকে একেবারে সুস্পষ্ট যে, এটি কোনো আন্দোলনই নয়। বরং ইলহাদ ও যানদাকা এবং সে হলো ইসলামের দুশমন।” (ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী কে আকায়েদ পৃ.৪৩)
বাংলার উলামায়ে কেরামের ফাতওয়া
মাশরেকীর ভ্রান্তি নির্ণয় এবং তার খন্ডনে বাংলার উলামায়ে কেরামও পিছিয়ে ছিলেন না। সাধ্যমত তারাও তৎপর ছিলেন। জনাব মাশরেকীর রচনাবলী নিরীক্ষণ করে তারাও এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, এ সবের প্রবক্তা কিছুতেই মুসলমান থাকতে পারে না। নিম্নে তৎকালীন বাংলা প্রদেশের দু’এটি ফাতওয়া বিভাগের ফাতওয়া নকল করছি।
দারুল উলূম হাটহাজারীর ফাতওয়া
দারুল উলূম হাটহাজারী’কে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়া কিছু নেই। বর্তমান বাংলাদেশের মুসলিম উম্মাহর আস্থার জায়গা হলো এই দারুল উলূম। দারুল উলূমের প্রধান মুফতী যিনি বাংলাদেশের ‘মুফতী আযম’ নামে খ্যাত, হযরত মুফতী ফয়যুল্লাহ রাহ. জনাব মাশরেকী সম্পর্কে দীর্ঘ এক ফাতওয়া লেখেন। সে ফাতওয়ায় তিনি মাশরেকীকে কাফির ও মুলহিদ সাব্যস্ত করেন। ফাতওয়াটি সমর্থন করে দস্তখত করেছেন তৎসময়ে দারুল উলূমের বিজ্ঞ উস্তাযমন্ডলী। তার ফাতওয়ার অংশবিশেষ নিম্নরূপ-
عنایت اللہ مشرقی کے عقائد اور خیالات ملحدانہ اور کافرانہ ہیں، جسکے عقائد ایسے ہوں وہ بلاشک وشبہ مرتد، کافر، ملحد ہے، شریعت غرا ٫اور احکام اسلام کی وقعت اس کے دل میں قطعا نہیں، بلکہ خود دین اسلام کی سچائی اور حقانیت کا اعتقاد اس کو نہیں۔ ضروریات دین اور احکام قطعیہ کا وہ منکر ہے، بلکہ شعار اسلام کی سخت توہین اسکی عبارت سے نکلتی ہے، ظاہر ہے کہ ضروریات دین کا منکر کافر، مرتد ہے، نیز احکام شرعیہ کا استخفاف اور توہین کفر والحاد ہے۔ کتبہ احقر فیض اللہ عفا اللہ عنہ، مفتی مدرسہ معین الاسلام ہاٹ ہزاری، چاٹگام، (یکم ج ۲ ۵۵ھ) نعم ما اجاب المجیب، عبد الوہاب عفی عنہ، لا معید عن الجواب، عبد الجلیل، اصاب من اجاب ، عبد الجبار، الجواب صحیح ، سعید احمد عفی عنہ صدر مدرس مدرسہ معین الاسلام، جواب درست ہے، محمد ابراہیم
“ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকীর আকীদা বিশ্বাস ও চিন্তাচেতনা কুফরী ও ইলহাদী। আর এমন আকীদা পোষণকারী নিঃসন্দেহে মুরতাদ, কাফের ও মুলহিদ। পবিত্র শরীআত এবং ইসলামী বিধানবলীর প্রতি তার অন্তরে বিন্দুমাত্র সম্মান-আযমত নেই; স্বয়ং ইসলাম ধর্মের সত্যতার বিশ্বাসই তার অন্তরে নেই। দীনের জরূরিয়াত এবং অকাট্ট বিষয়াবলীকে সে অস্বীকার করে, বরং ইসলামের প্রতীকী বিধানসমূহের ব্যাপারে মারাত্মক হেয় ও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য তার বক্তব্যে পাওয়া যায়। প্রকাশ্য যে, জরূরিয়াতে দীনের অস্বীকারকারী কাফির ও মুরতাদ। এমনিভাবে শরীআতের বিধানসমূহের উপহাস ও হেয় করা কুফর ও ইলহাদ।” ... (রহমতে বারী- মওলবী হাকীম নূর মুহাম্মাদ, ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী কে আকায়েদ পৃ. ৬২)
মুফতী আযম ফয়যুল্লাহ রহ. এর উপর্যুক্ত ফাতওয়াকে সমর্থন করে দারুল উলূম হাটহাজারী বাণী ও তৎকালীন পরিচালক আল্লামা হাবীবুল্লাহ কুরাইশী রহ. বলেন,
تحریک خاکسار والا بیشک مخالف دین متین ہے، اسکے عبارت سے کفر وضلالت صاف ظاہر ہے، جو شخص اسکے عقائد کو اچھا سمجھے وہ بھی اسی جیسا ہے، مفتی صاحب نے جو جواب تحریر فرمایا ہے نہایت صحیح ہے، فقط کتبہ حبیب اللہ، مہتمم مدرسہ معین الاسلام ہاٹ ہزاری، چاٹگام۔
“খাকসার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা নিঃসন্দেহে দীনে ইসলামের বিরোধী। তার বক্তব্য, লেখনীতে ভ্রষ্টতা ও কুফরী সুস্পষ্ট। যে ব্যক্তি তার আকীদা বিশ্বাসকে সঠিক মনে করবে সেও তার হুকুমে গণ্য হবে। মুফতী সাহেব যে ফাতওয়া লিখেছেন তা অধিক সঠিক।” (রহমতে বারী-মওলবী হাকীম নূর মুহাম্মাদ, ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী কে আকায়েদ পৃ.৬২)
জামিয়া আরাবিয়া ইসলামিয়া জিরি’র ফাতওয়া
বাংলাদেশের সুপ্রাচীন প্রতিষ্ঠান জামিয়া আরাবিয়া ইসলামিয়া জিরি-চট্টগ্রাম। এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে হযরত মুফতী আযীযুল হক রহ. মাশরেকীর আকীদা এবং খাকসার আন্দোলন সম্পর্কে একটি ফাতওয়া লেখেন। ফাতওয়াটি তাসদীক ও সত্যায়ন করেছেন তৎকালীন জিরি মাদারাসার উলামায়ে কেরাম। তন্মধ্যে অন্যতম ছিলেন মাওলানা আবদুল ওয়াদুদ রহ.। ফাতওয়াটির অংশবিশেষ নিম্নরূপ,
عنایت اللہ مشرقی کے جتنے ناپاک خیالات وباطل عقائد سؤال مذکور میں ہیں ان بے بنیاد وزہریلے عقائد کی روسے عنایت اللہ کا کافر ومرتد اور خارج عن الاسلام ہونا بالکل یقینی اور مقطوع بہ امر ہے۔۔۔حررہ العبد المفتقر الی رحمۃ اللہ المدعو بعزیز الحق خادم شعبۂ افتاء مدرسۂ اسلامیہ جیری چاٹگام ۱۳/جمادی الآخرہ ۵۵.
“উল্লিখিত প্রশ্নপত্রে ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকীর যে সকল নাপাক ও বাতিল আকীদা, চিন্তাধারা উল্লেখ হয়েছে, এ সকল ভিত্তিহীন ও বিষাত্মক আকীদার কারণে ইনায়াতুল্লাহর কাফের, মুরতাদ এবং ইসলামের গন্ডি থেকে বের হওয়ার বিষয়টি একদম সুনিশ্চিত ও অকাট্ট।” (....)
আফগানিস্তানের উলামায়ে কেরামে ফাতওয়া
আফগানিস্তান ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রায় পাঁচ শতাধিক উলামায়ে কেরামের দস্তখত সম্বলিত একটি ফাতওয়া প্রকাশ করা হয়েছিলো। সে সকল উলামায়ে কেরামের সকলেই মাশরেকী সাহেবের কাফের ও যিন্দীক হওয়ার উপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ফাতওয়ার অংশবিশেষ নিম্নরূপ,
ان عقائد کا معتقد شخص (خواہ وہ مشرقی ہو یا کوئی اور) یقینا ملحد وکافر اور زندیق ہے، جو شخص ان عقائد کو فروغ دے، ان کو حق سمجھے، اس کا بھی یہی حکم ہے، اس کی جاری کی ہوئی تحریک میں شریک اور اسکی اعانت کفر والحاد کی اعانت ہے، ہر مسلمان کو اس سے اجتناب کرنا لازم ہے، اس تحریک کا مٹانا ہر مسلمان پر بقدر استطاعت فرض ہے۔
“(উক্ত ভ্রান্ত ও বাতিল আকীদার) বিশ্বাস পোষণকারী (মাশরেকী হোক বা অন্য কেউ) নিঃসন্দেহে মুলহিদ, কাফির ও যিন্দীক। যে ব্যক্তি উক্ত আকীদাসমূহকে বিশ্বাস করবে এবং সত্য মনে করবে সেও মুলহিদ গণ্য হবে। মাশরেকীর আন্দোলনে যোগদান করা এবং তাকে সাহায্য সহযোগিতা করা কুফর ও ইলহাদেরই সহযোগিতা করা। তাই সকল মুসলমানের উপর তাকে বয়কট করা আবশ্যক। প্রত্যেকের উপর যথাসাধ্য এই আন্দোলনকে নিস্ক্রিয় করা ফরয।” (ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী কে আকায়েদ পৃ.২৬)
লাহোর-পাকিস্তানের উলামায়ে কেরামের ফাতওয়া
লাহোরের ‘হিযবুল আহনাফ’ সংগঠনের সেক্রেটারী মাওলানা আবুল বারাকাত আহমদ রহ.। তিনি জনাব মাশরেকীর আকীদা সম্পর্কে একটি ফাতওয়া লেখেন। ফাতওয়াটিতে জনাব মাশরেকী ইসলাম থেকে খারিজ এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন। ১৩৫৬ হিজরীর সম্মেলনে উপস্থিত সকল উলামায়ে কেরামের কাছে ফাতওয়াটি পেশ করে সমথর্ন গ্রহণ করেন। নিম্নে ফাতওয়াটির অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো,
عنایت اللہ مشرقی بانی تحریک خاکسار باتفاق اہل سنت وجماعت دائرہ الاسلام سے خارج ہے
“আহলুস সুন্নাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো, খাকসার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা জনাব মাশরেকী সাহেব ইসলামের গন্ডি থেকে বের হয়ে গিয়েছেন।” (ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকী কে আকায়েদ পৃ.২৬. সূত্রে আলইরশাদ ডিসেম্বর ১৯৩৭)
লা-মাযহাবী উলামায়ে কেরামের ফাতওয়া
লামাযহাবাীদের মান্যবর আলেম মাওলানা ছানাউল্লাহ অমৃতসরী ‘খাকসার তাহরীক আওর উসকা বানী’ নামক দীর্ঘ কলেবরের একটি কিতাব রচনা করেছেন। ইনায়াতুল্লাহ মাশরেকীর জীবনী ও তার ভ্রান্ত চিন্তাধারা বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। কিতাবের পরিশিষ্টে তিনি মাশরেকী সাহেবের ফিতনা ও তার আকীদা সম্পর্কে মিসর, বায়তুল মাকদিস, তুরস্ক, মক্কা মুর্কারামা, হানাফী, শাফেঈ, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাব চতুষ্টয়ের উলামায়ে কেরামের ফাতওয়া নকল করেেেছন। তাঁদের সকলেই মাশরেকীর আকীদাকে ভ্রান্ত ও কুফরী আখ্যা দিয়েছেন।
বেরলভী আলেমদের ফাতওয়া
বেরলভী ঘরানার আলেমগণও জনাব মাশরেকীকে কাফের আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মান্যবর আলেম মাওলানা মুহাম্মদ সরদার আহদম কাদেরী ‘তাবসেরা মাযহাবী বর তাযকেরা মাশরেকী’ নামক একটি দীর্ঘ কিতাব রচনা করেন। এ কিতাবে জনাব মাশরেকীর নানাবিধ কুফরী আকীদা তুলে ধরে তাকে কাফের আখ্যা দেন। এ ফাতওয়ার স্বপক্ষে অনেক বেরলভী আলেমের সমর্থনও সেখানে নকল করেন। তারা আলোচনার অংশবিশেষ নিম্নরূপ-
مشرقی کے عقائد بلا شبہ عقائد کفریہ ہیں، اس ظالم کے کافر وملحد ہونے میں کسی عالم دین کو اختلاف نیہں، جو لوگ مشرقی کے ہم عقیدہ ہیں وہ بھی مشرقی کی طرح اسلام سے قطعا خارج ہیں۔
“মাশরেকী সাহেবের আকীদাসমূহ নিঃসন্দেহে কুফরী আকীদা। এই যালিমের কাফির এবং মুলহিদ হওয়ার বিষয়ে কোনো আলেমে দীনের দ্বিমত নেই। যারা মাশরেকীর ন্যায় আকীদা বিশ্বাস পোষণ করে তারাও তার ন্যায় সন্দেহাতীতভাবে ইসলামের গন্ডি থেকে বের হয়ে গেছে।” (তাবসেরা মাযহাবী বর তাযকেরায়ে মাশরেকী পৃ.৫৯)
মিসরের উলামায়ে কেরামের ফাতওয়া
ইনায়াতুল্লাহ খান মাশরেকী হিন্দুস্তানে খাকসার তাহরীক শুরু করার পর তৎকালীন উপমহাদেশের উলামায়ে কেরাম জোরদারভাবে তার ভ্রান্তি ও ইসলাম বিকৃতিকে মানুষের উন্মোচন করতে থাকেন। এতে ভীষণভাবে তার মিশন বাঁধাগ্রস্থ হয়ে প—ে। এক পর্যায়ে তিনি উলামায়ে কেরামকে এক চেটিয়া গালমন্দ, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও হেয় প্রতিপন্ন করা শুরু করেন। তিনি নিজ অনুসারীদের এ কথা বোঝাতে চেষ্টা করেন যে, হিন্দের উলামার চে’ মিসরের উলামায়ে কেরাম বেশী জ্ঞান রাখে। আর তাঁরা তার চিন্তা-চেতনাকে সমর্থন করেছেন। তার বিভিন্ন বক্তব্যে উলামায়ে মিসরের ভূয়সী প্রশংসা উঠে আসে। তখন হিন্দুস্তানের উলামায়ে কেরাম চিন্তা করলেন যে, এই মাশরেকীর কুফরী আকীদার ব্যাপারে মিসর ও আরব বিশ্বের উলামায়ে কেরামের ফাতওয়া গ্রহণ করা দরকার।
শায়খ ইউসুফ বিন আহমদ দাজাবী রহ. এর ফাতওয়া
জামিয়া ইসলামিয়া ডাভেলের বিশিষ্ট শায়খুল হাদীস আল্লামা ইউসূফ বানুরী রহ. মজলিসে ইলমী’র পক্ষ থেকে মিসরসহ বিভিন্ন আরব দেশ সফর করেন। এ সফরে তিনি সেখানকার প্রসিদ্ধ উলামায়ে কেরামের সামনে মাশরেকী সাহেবের গোমরাহী পুঙ্খানুপুঙ্খ তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে ফাতওয়া প্রদানের আবেদন করেন। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে মিসরের প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব ও আলেম শায়খ ইউসুফ দাজাবী রহ. এ আবেদন কবুল করেন।
শায়খ ইউসুফ বিন আহমদ আদ-দাজাবী (১৮৭০-১৯৪৬ঈ.) হলেন জামিউল আযহারের একজন খ্যতনামা উস্তায। আযহারের উলামায়ে কেরামের সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘হাইআতু কিবারি উলামাইল আযহার’ এর অন্যতম সদস্য। তিনি জনাব মাশরেকীর বিষয়ে একটি দীর্ঘ ফাতওয়া লেখেন। শায়খ সেখানে মাশরেকীকে কাফের ও মুলহিদ আখ্যা দেন। তৎকালীন মিসরের অন্য উলামায়ে কেরাম ফাতওয়াটির তাসদীক ও সমর্থন করেন। ফাতওয়াটি ১৭/১০/১৩৫৭ হিজরী মোতাবেক ৯/১২/১৯৩৮ ঈ. তে মিসরের ‘আলইসলাম’ নামক পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। নিম্নে তার ফাতওয়ার অংশবিশেষ ও অন্যদের তাসদীক সংক্ষেপে তুলে ধরছি।
إن من يرتئ هذه الآراء وينسبها إلى الإسلام لمجنون أشنع الجنون وأفرعه، قبل أن يكون ملحداً كافراً مارقاً من الدين الإسلامي، ليس له أدنى حظ فيه، وذلك من أبده البدهيات وأول الضروريات...وما يقوله هذا الجاهل من أن علماء الازهر لقبوه العلامة، فهو افتراء وبهتان، وحاشاهم أن يحكموا بإسلام مثل هذا الرجل، فكيف بالعالم وكيف بالعلامة، هو علامة في الكفر...
“যে ব্যক্তি উক্ত চিন্তাধারা পোষণ করে এবং সেগুলোকে ইসলামী বলে দাবী করে, সে তো চরম পর্যায়ের পাগল ছাড়া আর কিছু নয়। ইসলাম থেকে খারিজ, মুলহিদ এবং কাফির হওয়ার পূর্বে সে তো মারাত্মক বিকৃত মস্তিস্ক একজন মানুষ। ইসলামে সামান্যতম তার কোনো অংশ নেই। আর এটিতো দিবালোকের চে’ সুস্পষ্ট এবং জরূরিয়াতের সর্বপ্রথম। উলামায়ে আযহার তাকে ‘আল্লামা’ ভূষণে ভূষিত করেছে বলে এই জাহেল ব্যক্তি যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট অপবাদ। তাঁরা তো এ ধরনের মানুষকে মুসলিমই বলে স্বীকৃতি দেয় না, সেখানে ‘আলেম’ এরপর ‘আল্লামা’ বলে কীভাবে স্বীকৃতি দিবে?! সে হলো কুফরের আল্লামা!!” (যরবে কারী বর মাযহাবে খাকসারী পৃ.৬-১৩)
শায়খ মুস্তফা আবু সাইফ আলহাম্মামী রহ. এর ফাতওয়া
শায়খ মুস্তফা আবু সাইফ আলহামামী রহ. (১৯৪৯ঈ) উলামায়ে আযহারের একজন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব। তিনি শায়খ ইউসুফ দাজাবী রহ. এর ফাতওয়ার উপর একটি দীর্ঘ সত্যায়ন ও সমর্থনপত্র লেখেন। তাতে তিনি পরিস্কার ভাষায় জনাব মাশরেকীকে কাফের ও দাজ্জাল আখ্যা দেন। তিনি সমর্থন করে লিখেন,
...هذا الرجل المستفتى عنه أوافق فضيلة العلامة الكبير الشيخ يوسف الدجوي في كل كلمة قالها في شأنه...ورأئي في هذا الرجل أنه دجال...كتبه مصطفى أبو سيف الحمامي، خطيب الحرم الزيني بالقاهرة (من كبار علماء الأهر) ۵/رمضان/۱۳۵۷.
“জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি (মাশরেকী) সম্পর্কে আল্লামা শায়খ ইউসুফ দাজাবীর লিখিত ফাতওয়ার আমি প্রতিটি শব্দের সমর্থন করি। আমার মতে সে একজন দাজ্জাল...।” (যরবে কারী বর মাযহাবে খাকসারী পৃ.১৩)
আল্লামা হাবীবূল্লাহ শিনকিতী রহ. এর ফাতওয়া
শায়খ মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ শিনকিতী রহ. (১২৯৫-১৩৬৩হি.) মিসরের প্রখ্যাত আলেম ও মুফতী। তিনি জামিআ আযহারের খ্যাতনামা উস্তায ছিলেন। তিনিও শায়খ দাজাবী রহ. এর ফাতওয়াকে সমর্থন করে মাশরেকীকে মুলহিদ ও মুরতাদ্দ আখ্যা দেন। তিনি লেখেন-
...فقد اطلعت على ما نقل عن هذا الزائغ (عنايت الله المشرقي) الضال المصادم كلامه لكتاب الله وسنة رسوله عليه الصلاة والسلام، فوجدته صريحا في الردة ومخالفة الكتاب والسنة وإجماع الأمة ...وصريح ألفاظه ...يغنى عن جلب الأدلة على كفره وضلاله.
“বিচ্যুত ও পথভ্রষ্ট, কুরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক বক্তব্য প্রদানকারী এই লোকের বিভিন্ন আকীদা ও চিন্তাভাবনা সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি। তার বক্তব্যসমূহে স্পষ্টভাবে কুরআন, সুন্নাহ, উম্মাহর ইজমার বিপরীত এবং ইরতিদাদ পেয়েছি। তার ভ্রষ্টতা ও কুফরীর উপর স্পষ্ট কথাগুলো সবচে’ বড় দলীল; তাই তার কুফরীর উপর দলীল উল্লেখের কোনো প্রয়োজন নেই।” (যরবে কারী বর মাযহাবে খাকসারী পৃ.১৪)
তুর্কীর উলামায়ে কেরামের ফাতওয়া
শায়খ দাজাবী রহ. এর ফাতওয়াটি তুর্কি উলামায়ে কেরামের নিকটও পেশ করা হয়। তৎকালীন তুর্কী উলামায়ে কেরামও সহমত পোষণ করে ফাতওয়াটির তাসদীক ও সত্যয়ন করেন। আল্লামা মুস্তফা সাবরী রহ. (১৮৬৯-১৯৫৪ঈ.) যিনি খেলাফতে উসমানিয়া তুর্কির শায়খুল ইসলাম ছিলেন। তিনিও শায়খ দাজাবী রহ. এর ফাতওয়াটি সমর্থন করেন এবং জনাব মাশরেকীকে কাফের আখ্যা দেন। এমনিভাবে খেলাফতে উসমানিয়ার অন্যতম আলেম ফকীহ ও ইমাম আল্লামা যাহেদ বিন হাসান কাউসারীও রহ. (১৩৭১হি.) ফাতওয়াটির সমর্থন করেন। (দ্র. যরবে কারী পৃ. ১৫-১৬)
বায়তুল মাকদিসের খতীব আল্লামা খলীল খালেদী হানাফী রহ. এর ফাতওয়া
শায়খ দাজাবী রহ. এর ফাতওয়াটি বায়তুল মাকদিসের তদানীন্তন খতীব শায়খ আল্লামা খলীল খালেদী হানাফী রহ. এর নিকট পেশ করা হয়। তিনি বিস্তারিত দেখে তার সমর্থন করেন। সমর্থন পত্রে তিনিও জনাব মাশরেকীকে কাফের আখ্যা দেন। (যরবে কারী পৃ. ১৬)
মক্কার উলামায়ে কেরামের ফাতওয়া
জনাব মাশরেকী ভ্রান্ত আকীদা উল্লেখ করে মক্বার উলামায়ে কেরামের কাছে একটি প্রশ্ন পাঠানো হয়। সাথে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে তাদের থেকে ফাতওয়া তলব করা হয়। এর উত্তরে মক্কার তখনকার ইমাম শায়খ আবুস সামহ একটি দীর্ঘ ফাতওয়া লেখেন। ফাতওয়াতে তিনি জনাব মাশরেকীকে কাফের আখ্যা দেন। তার ফাতওয়াটিতে মক্কার অন্যান্য উলামায়ে কেরামও সমর্থন করে সত্যায়ন করেন। নিম্নে তার ফাতাওয়ার অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো,
فهذا الداعي لا شك في كفره وجهله وبهتانه، وأنه ممن باع الآخرة بالدنيا، واشترى بآيات الله ثمنا قليلا، فحق على كل مسلم إذا سمع منه هذا الكلام أن يعرض عنه وعلى من قدر أن يصقعه على قفاه ويمنعه، والله ولي التوفيق، كتبه أبو السمح إمام الحرم المكي/ ۱۱-۱-۱۳۵۸.
“এই দাঈ (মাশরেকীর) কুফর, জাহালাত এবং মিথ্যাবাদীতার মাঝে কোনো সন্দেহ নেই। সে দুনিয়ার জন্য আখেরাতকে বিক্রি করে দিয়েছে। অল্পমূল্যের লোভে আল্লাহর আয়াতসমূহকে বিক্রি করেছে। তাই প্রতিটি মুসলমানের অবশকর্তব্য হলো, তার এ ধরনের কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা, এবং ক্ষমতা থাকলে তাকে ঘা—ে আঘাত করে (উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে) এ কাজ থেকে নিবৃত রাখা। আল্লাহই তাওফীক দাতা।”(যরবে কারী বর মাযহাবে খাকসারী পৃ.১৮)
মাশরেকীর গন্তব্যে বায়াজীদ খান পন্নী!
জনাব মাশরেকীর চিন্তা-চেতনা সম্পর্কে বিশ্বের উলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত ও ফাতওয়া আমরা দেখলাম। সকলেই তার বাতিল আকীদা, চিন্তাচেতনার কারণে তাকে কাফির, মুলহিদ ও যিন্দীক আখ্যা দিয়েছেন। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা পন্নী সাহেবও একই গন্তব্যের পথিক। তার চিন্তা-চেতনা এবং হেযবুত তওহীদের লক্ষ্য ও কর্মপদ্ধতি সবই মূলত মাশরেকী সাহেব থেকে ধার করা; যা বিগত পর্বে তুলনামূলক বিশ্লেষণে আমরা দেখেছি। সেথায় বিভিন্ন প্রমাণাদির আলোকে প্রমাণিত হয়েছে যে, হেযবুত তওহীদ নতুন কোনো দল বা সংগঠন নয়। এটি তাহরীকে খাকসারেরই নতুন একটি সংষ্করণ। তাই বায়াজীদ খান পন্নী এবং তার স্থলাভিষিক্ত হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম যে মুলহিদ ও যিন্দীক- একথা নতুনভাবে বলা প্রয়োজন নেই। উলামায়ে কেরাম তাদের মতবাদের ব্যাপারে পূর্বেই ফাতওয়া দিয়ে গেছেন।
একজন বুঝমান মুসলমানের জন্য হেযবুত তওহীদের স্বরূপ ও ভ্রান্তি জানার জন্য বিগত ও বক্ষমাণ পর্ব যথেষ্ট ছিলো। হক ও সত্য বোঝার নিয়তে ধীরস্থিরভাবে দেখলে আশা করি বুঝে আসবে যে, হেযবুত তওহীদ ইসলামী কোনো দল নয়। এরা প্রকৃতপক্ষে নবআবিস্কৃত ‘এসলাম’ প্রচার করছে। এদের সমর্থন করা এবং এদেরকে বিশ্বাস করা কোনোক্রমেই সঠিক হবে না। এরপরও কারও কৌতূহল থাকতে পারে বায়াজীদ খান পন্নীর কুফরী ও গোমরাহী আকীদা বিশ্বাস নিয়ে স্বতন্ত্র আালোচনা করার। তাদের কৌতূহল মিটানোর জন্য্ই মূলত পন্নী সাহেবের গোমরাহী নিয়ে স্বতন্ত্র আলোচনা তুলে ধরা প্রয়াস পাব ইনশা আল্লাহ।