• Separator
  • যে কোনো বিষয়ে শরীয়ী সমাধান ও পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন ডিটা প্রধান কার্যালয় — জামিয়া সুফফাহ শারকিয়া, দারুল ইফতায়।
  • Separator
  • দাওয়াহ, জ্ঞান ও সেবায় সমৃদ্ধ উম্মাহ গড়তে সাথে থাকুন।
  • Separator
  • প্রতি শুক্রবার নিয়মিত ইসলাহী প্রোগ্রাম এবং প্রতি ইংরেজি মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার দারুসুল কুরআন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়—স্থান: সুত্রাপুর, বগুড়া।
  • Separator
  • যে কোনো বিষয়ে শরীয়ী সমাধান ও পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন ডিটা প্রধান কার্যালয় — জামিয়া সুফফাহ শারকিয়া, দারুল ইফতায়।
  • Separator
  • যে কোনো বিষয়ে শরীয়ী সমাধান ও পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন ডিটা প্রধান কার্যালয় — জামিয়া সুফফাহ শারকিয়া, দারুল ইফতায়।
  • Separator
  • দাওয়াহ, জ্ঞান ও সেবায় সমৃদ্ধ উম্মাহ গড়তে সাথে থাকুন।
  • Separator
  • প্রতি শুক্রবার নিয়মিত ইসলাহী প্রোগ্রাম এবং প্রতি ইংরেজি মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার দারুসুল কুরআন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়—স্থান: সুত্রাপুর, বগুড়া।
  • Separator
  • যে কোনো বিষয়ে শরীয়ী সমাধান ও পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন ডিটা প্রধান কার্যালয় — জামিয়া সুফফাহ শারকিয়া, দারুল ইফতায়।

ইসলামী পরিবার

ইসলাম পরিবারকে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছে। পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তানদের সমন্বয়ে গঠিত পরিবারকে অটুট, সুশৃঙ্খল ও সুখময় রাখার জন্য ইসলাম একটি সুসংহত জীবনব্যবস্থা উপস্থাপন করেছে। একটি পরিবার কীভাবে স্থিতিশীল থাকবে, সদস্যদের মধ্যে কীভাবে পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং কীভাবে কলহ-বিবাদ থেকে মুক্ত থেকে শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন সম্ভব হবে—ইসলামী বিধানসমূহ সে লক্ষ্যেই প্রণীত হয়েছে। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব, অধিকার, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যে, সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে পারিবারিক জীবন শান্তি, সৌহার্দ্য ও কল্যাণে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পারিবারিক জীবনকে সুন্দর ও আদর্শরূপে গড়ে তোলার জন্য ইসলামী জ্ঞান-ঐতিহ্যে বিশেষভাবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রের বিকাশ ঘটেছে। একটি হলো আদাব ও মুআশারাত (সামাজিক ও পারিবারিক আচরণবিধি) এবং অন্যটি হলো ইলমুল আখলাক (নৈতিকতা ও চরিত্রগঠন)। এসব শাস্ত্রে পারিবারিক সম্পর্কের নীতিমালা, পারস্পরিক আচরণের আদর্শ এবং মানবিক গুণাবলির বিকাশের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারে ঐক্য, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এমন সব নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মানবপ্রকৃতির অনুকূল এবং বাস্তব জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইসলামী পরিবার মূলত ঈমান, তাকওয়া, পারস্পরিক দায়িত্ববোধ এবং নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আল্লাহভীতি, দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা ও সহমর্মিতা, পারস্পরিক অধিকার সংরক্ষণ, শালীনতা, ন্যায়বিচার এবং পারিবারিক বন্ধনের দৃঢ়তা। ইসলামী পরিবারের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় সদস্যদের মধ্যে দয়া, শ্রদ্ধা, সহযোগিতা, ক্ষমাশীলতা, আত্মত্যাগ এবং একে অপরের কল্যাণকামিতার মাধ্যমে। এ ধরনের পরিবার কেবল ব্যক্তির মানসিক প্রশান্তি ও নৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করে না; বরং একটি সুস্থ সমাজ ও আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তিও রচনা করে। তাই ইসলামী পরিবারকে মানবসভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পরিবার: ইসলামী মূল্যবোধ ও পশ্চিমা সভ্যতার দ্বন্দ্ব

পরিবারকে কেন্দ্র করে ইসলামী চিন্তাধারা ও আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। ইসলাম পরিবারকে মানবজীবনের মৌলিক ও অপরিহার্য সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে; যেখানে পারস্পরিক দায়িত্ব, আত্মত্যাগ, সহযোগিতা, আত্মীয়তার বন্ধন এবং প্রজন্মের ধারাবাহিকতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। পক্ষান্তরে আধুনিক পাশ্চাত্য চিন্তায় ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার (Individualism) ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক বন্ধন, যৌথ দায়িত্ববোধ এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।

একজন মুসলিম হিসেবে এ পার্থক্যগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় বাহ্যিক চাকচিক্য ও আকর্ষণীয় স্লোগানের প্রভাবে ইসলামী পারিবারিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমান যুগে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন সংস্কৃতির বিস্তারের কারণে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারণা মুসলিম সমাজের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। এর প্রভাবে ব্যক্তিবাদ ক্রমশ বিস্তার লাভ করছে। অনেক মানুষ যৌথ বা সম্প্রসারিত পরিবারকে বোঝা মনে করছে, পিতা-মাতার সঙ্গে বসবাস বা তাদের দায়িত্ব গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে, এমনকি কেউ কেউ বিবাহ ও পারিবারিক জীবনকেও অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা হিসেবে বিবেচনা করছে। এসব প্রবণতা কেবল ইসলামী মূল্যবোধের পরিপন্থী নয়; বরং মানবিক সম্পর্ক, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং মানসিক সুস্থতার জন্যও ক্ষতিকর।

ইসলাম পরিবারকে কেবল বসবাসের একটি কাঠামো হিসেবে দেখে না; বরং এটিকে ভালোবাসা, নিরাপত্তা, নৈতিক শিক্ষা, মানবিক বিকাশ এবং সামাজিক সংহতির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে। পরিবারই মানুষের প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চরিত্র গঠনের সূতিকাগার এবং সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি। তাই অমানবিক ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা এবং দায়িত্বহীনতার প্রবণতা থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য ইসলামী পরিবার দর্শন, এর উদ্দেশ্য, কল্যাণ ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গভীরভাবে জানা এবং তা বাস্তব জীবনে অনুসরণ করা অপরিহার্য। ইসলামী পারিবারিক আদর্শের সঠিক উপলব্ধি ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজকে সুস্থ, স্থিতিশীল ও কল্যাণমুখী পথে পরিচালিত করতে সক্ষম।

ইসলামী পরিবারব্যবস্থার অন্যতম সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য হলো আত্মীয়তা ও প্রতিবেশীর অধিকার সংরক্ষণ। ইসলাম শুধু পরিবারকেন্দ্রিক দায়িত্বের কথাই বলেনি; বরং আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং বৃহত্তর সমাজের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এ বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহয় অসংখ্য নির্দেশনা বর্ণিত হয়েছে। আত্মীয়তা ও প্রতিবেশীর হক যথাযথভাবে আদায় করা সুস্থ পরিবার, সংহত সমাজ এবং মানবিক সভ্যতা গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

ইসলামে প্রত্যেক সম্পর্কের ক্ষেত্রে হক (দায়িত্ব) ও অধিকার উভয়েরই আলোচনা রয়েছে। তবে ইসলামী শিক্ষায় অধিকারের চেয়ে দায়িত্ব ও কর্তব্যের ওপর তুলনামূলক বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এর কারণ হলো, সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তি যদি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও হক যথাযথভাবে পালন করে, তাহলে অন্যের অধিকার স্বাভাবিকভাবেই বাস্তবায়িত হয়ে যায়। ফলে পারস্পরিক দাবি-দাওয়ার পরিবর্তে দায়িত্বশীলতা, সহযোগিতা এবং আত্মত্যাগের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।

আত্মীয়তার সম্পর্ক (সিলাতুর রাহিম) রক্ষা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক নির্দেশনা। আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, তাদের খোঁজখবর নেওয়া, প্রয়োজনে আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতা করা, অসুস্থ অবস্থায় সাক্ষাৎ করা, দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো এবং পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখা এসবই আত্মীয়তার হকের অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে প্রতিবেশীর নিরাপত্তা, সম্মান, স্বাচ্ছন্দ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করাও ইসলামী শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন মুসলমানের উত্তম চরিত্রের অন্যতম পরিচয় হলো তার প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ।

আত্মীয়তা ও প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কিত বিধানসমূহ একস্তরের নয়; বরং সম্পর্কের নৈকট্য, প্রয়োজন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী এর বিভিন্ন স্তর ও ধরন রয়েছে। তাই এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইসলামী জ্ঞান অর্জন এবং এর বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া অপরিহার্য। আত্মীয়তা ও প্রতিবেশীর হক সংরক্ষণের মাধ্যমেই পরিবারে ভালোবাসা, সমাজে সম্প্রীতি এবং জাতির মধ্যে ঐক্য ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

Under Construction

Under Construction

Under Construction